অ্যানাবেল পুতুলের গল্পের চরম সত্য: চ্যালেঞ্জের পর মৃত্যু

হলিউডের জনপ্রিয় ‘দ্য কনজ্যুরিং’ ইউনিভার্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এড ও লরেন ওয়ারেন দম্পতির বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলো আজও রহস্য ও ভয়ের আবহ তৈরি করে। তাদের সংগ্রহে থাকা তথাকথিত ‘অভিশপ্ত’ বস্তুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো অ্যানাবেল পুতুল।
ওয়ারেন দম্পতির পরিচালিত কানেকটিকাটের ‘অকাল্ট মিউজিয়াম’-এ সংরক্ষিত এই পুতুলকে ঘিরে রয়েছে নানা ভৌতিক দাবি। এমনই একটি ঘটনায় এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যুর কথা প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদিন এক তরুণ তার প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে ওই মিউজিয়াম পরিদর্শনে যান। সেখানে কাঁচের বাক্সে রাখা অ্যানাবেল পুতুল দেখে তিনি হাসাহাসি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি পুতুলটির দিকে ইঙ্গিত করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এড ওয়ারেন তাকে দ্রুত মিউজিয়াম থেকে বের করে দেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মিউজিয়াম থেকে ফেরার পথে ওই তরুণ মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সঙ্গে থাকা প্রেমিকা অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। পরে তিনি জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগে তরুণটির আচরণে অস্বাভাবিক ভয়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল, যেন তিনি কিছু অদৃশ্য জিনিস দেখছিলেন।
লরেন ওয়ারেন এই ঘটনাকে কখনোই সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখেননি। তার দাবি ছিল, ওই তরুণ এমন এক অদৃশ্য শক্তিকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতি ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ওয়ারেন দম্পতির সংগ্রহ ও তাদের বর্ণিত ঘটনাগুলো বহু বছর ধরে মানুষের কৌতূহল ও ভয়ের উৎস হয়ে রয়েছে।
পর্দায় সাহসী হিসেবে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবে এসব ঘটনার মানসিক চাপ তাদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলত। লরেন ওয়ারেন নিজেও বিশ্বাস করতেন, অতিপ্রাকৃত ঘটনার অনুসন্ধানের পর এক ধরনের নেতিবাচক শক্তি দীর্ঘ সময় তাদের ঘিরে রাখত।
দৈএনকে/জে, আ