বজ্রপাতের ঝুঁকি? বাঁচতে ‘৩০ মিনিটের নিয়ম’ মেনে চলুন

কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাত এখন এক মরণঘাতী আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের মতে, বজ্রপাতের শব্দ (Thunder) শুনতে পাওয়া মানেই আপনি সম্ভাব্য বিপদের সীমানার মধ্যে অবস্থান করছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বজ্রপাত সাধারণত যে দূরত্বে শব্দ তৈরি করে, ঠিক সেই দূরত্বেই আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। তাই আকাশে মেঘের ডাক শুনলে অবহেলা না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
১০ মাইলের মরণফাঁদ
বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাতের শব্দ সাধারণত প্রায় ১০ মাইল দূর থেকে শোনা যায়। বিস্ময়কর তথ্য হলো, একটি বজ্রপাত তার মূল মেঘপুঞ্জ থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরেও আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ, আপনি যদি বজ্রপাতের শব্দ শুনতে পান, তবে এর অর্থ হলো আপনি এমন এক ব্যাসার্ধের মধ্যে আছেন যেখানে পরবর্তী বজ্রপাতটি আপনার ওপর আছড়ে পড়ার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।
জীবন রক্ষায় ‘৩০ মিনিটের গোল্ডেন রুল’
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি নিয়ম হলো ‘৩০ মিনিটের অবস্থান’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের একাধিক শব্দের মধ্যে আপনি যখন সর্বশেষ শব্দটি শুনবেন, সেই সময় থেকে পরবর্তী অন্তত ৩০ মিনিট বাড়ির বাইরে বের হবেন না। অনেক সময় দেখা যায়, আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়ে এলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে যায়। এই ৩০ মিনিট ঘরে অবস্থান করলে আকস্মিক বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
বজ্রপাতের সময় বিশেষ সতর্কতা
-
উন্মুক্ত স্থান বর্জন: বজ্রপাতের শব্দ শুনলে সাথে সাথে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান বা গাছের নিচ থেকে সরে গিয়ে পাকা দালানে আশ্রয় নিন।
-
ইলেকট্রনিক ডিভাইস: ঘরের ভেতরে থাকলেও বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। সম্ভব হলে মেইন সুইচ বা প্লাগ খুলে রাখুন।
-
ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন: কলতলার ট্যাপ, জানালার গ্রিল বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না।
-
যানবাহনে থাকলে: যদি গাড়িতে থাকেন, তবে গাড়ির ভেতরেই থাকুন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন গাড়িটি কোনো বড় গাছের নিচে পার্ক করা না থাকে।
বিশেষজ্ঞের অভিমত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “বজ্রপাত একটি তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এখানে সতর্কতাই প্রধান প্রতিরক্ষা। মেঘের ডাক শোনার পর অন্তত আধা ঘণ্টা ঘরে থাকা জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
দৈএনকে/জে, আ