ডিজেল সংকট: প্রস্তুতি নিলেই সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব

বর্তমান সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ডিজেল সরবরাহ। মার্চে সরবরাহকৃত ডিজেল মজুত বর্তমানে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, যা চলমান চাহিদার মাত্র ১০ দিনের যোগান দিতে পারবে। এপ্রিলের জন্য ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। যদিও আগামী ১৫ দিনে ৯৫ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছতে পারে, তবুও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।
সরকার বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল আমদানির চেষ্টা করছে। চীন, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এ মাসে প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল আসার আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া ও আরও কিছু দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অকটেন এবং পেট্রলের ঘাটতি নেই। এপ্রিলে দেশের অকটেন চাহিদা ৩৭ হাজার টন, যেখানে ৩০ হাজার টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে এবং বাকি আমদানি করা হবে। পেট্রল সম্পূর্ণ দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যাবে।
মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও চিন্তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়ে ৯৮ শতাংশ, যার ফলে প্রতি লিটার আমদানিকৃত ডিজেলের খরচ ১৯৮ টাকা। সরকার যদি বর্তমান ১০০ টাকার স্থিতি বজায় রাখে, এক মাসেই পাঁচ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেল দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাই সরবরাহ নিশ্চিত রাখা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেচ ও পণ্য পরিবহনে ডিজেল ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন ও সাশ্রয়ী হতে হবে।
সংক্ষেপে, ডিজেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি সঠিকভাবে ম্যানেজ করা না হলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। সচেতন পরিকল্পনা এবং বৈকল্পিক আমদানির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।