মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ হাম আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা ঢাকার পশুর হাটে নিরাপত্তায় আসছে হটলাইন ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুর টেস্টে নাটকীয় মোড়, জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বড় চমক: ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হলে মিলবে গাড়ি মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সিলেটেই হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট, অপরিবর্তিত বাংলাদেশ স্কোয়াড ঘোষণা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, ঈদের আগেই দেশে আনার চেষ্টা
  • ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা; স্বপ্ন নাকি বাস্তবতা?

    ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা; স্বপ্ন নাকি বাস্তবতা?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঈদ মানেই শিকড়ের টানে বাড়ি ফেরা। দেশের নগর-বন্দর এবং দূরদূরান্তের গ্রাম অঞ্চলের মানুষের জন্য ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মিলনের, পরিবার-সংঘর্ষের আনন্দ এবং আত্মিক প্রশান্তির উৎস। কিন্তু এই আনন্দমুখর যাত্রা প্রতিবছরই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে—বিশেষ করে যাত্রীদের জন্য ট্রেনযাত্রা যেন হয়ে উঠেছে এক বিশাল ভোগান্তি।

    রেলের ওপর সাধারণ মানুষের যে অগাধ আস্থা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীসেবা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবতা অনেকটা উল্টো। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে যেখানে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলেছিল, ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ জোড়ায়। এই হ্রাস শুধু সংখ্যার নয়, বরং মানুষের চলাচলের স্বাভাবিক অধিকারকেও প্রভাবিত করছে।

    রেল কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন সংকট এবং দীর্ঘ ছুটির দোহাই দিলেও বাস্তব চাহিদা ও সরবরাহের ফারাক দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ট্রেন একমাত্র সাশ্রয়ী এবং বিশ্বাসযোগ্য যাতায়াতের মাধ্যম। কিন্তু আসনের সীমাবদ্ধতা, টিকিটধারীদের নিজ আসনে না পৌঁছানোর সমস্যা এবং ভোগান্তিকর ভিড়—সব মিলিয়ে ‘ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা’ আজ কেবল একটি স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

    বড় বড় রেল অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও মৌলিক সংকট যেমন ইঞ্জিন ও কোচের ঘাটতি সমাধান হয়নি। বিশেষ ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো কেবল আংশিক সমাধান; স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার বিকল্প নেই। রেলযাত্রা নিরাপদ, নিরবিচ্ছিন্ন এবং সাশ্রয়ী করতে হলে প্রয়োজন:

    • ইঞ্জিন ও কোচের সংখ্যা বৃদ্ধির স্থায়ী ব্যবস্থা।
    • টিকিট ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া।
    • অতিরিক্ত যাত্রীদের জন্য নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা।
    • দীর্ঘমেয়াদি রেল নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভোগান্তি হ্রাসকে প্রাধান্য।

    ঈদযাত্রার ভোগান্তি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, এটি মানুষের অনুভূতি, তাদের প্রত্যাশা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে জড়িত। যদি এই মৌলিক সমস্যাগুলো সময়মতো সমাধান না হয়, তবে ‘ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা’ থেকে যাবে কেবল একটি শ্লোগান বা প্রচারণার অংশ। দেশের রেলযাত্রার ভরসা ও জনসাধারণের বিশ্বাস টিকিয়ে রাখতে হলে আজই পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

    ঈদ মানেই আনন্দ, মিলন এবং শান্তি। রেলওয়েকে সেই আনন্দকে ভোগান্তিমুক্ত করার দায়িত্ব নিতে হবে—না হলে মানুষের শিকড়ের দিকে প্রত্যাবর্তনের আনন্দ হারিয়ে যাবে দীর্ঘ রেল লাইনের ভিড়ে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ