ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ভেঙেছে সব রেকর্ড

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর পর্যন্ত উত্তেজনা বিস্তৃত হওয়ায় তেলের দাম রেকর্ড গতিতে বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর মাত্র এক মাসে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.০৯ ডলার বা ২.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৫.৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২.৯২ ডলার বা ২.৯৩ শতাংশ বেড়ে ১০২.৫৬ ডলারে অবস্থান করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পেছনে মূলত ইরানকে ঘিরে সংঘাতের বিস্তার। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এতে আরব উপদ্বীপ ও লোহিত সাগরের নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। জেপি মরগানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভার বলেন, “সংঘাত এখন শুধুমাত্র পারস্য উপসাগর সীমাবদ্ধ নেই; এটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও বিস্তৃত হয়েছে, যা বিশ্ব তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ।”
সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইয়ানবু বন্দরেও কোনো বিঘ্ন ঘটলে সৌদি তেলকে মিসরের সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান (সুমেদ) পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠাতে হতে পারে।
অন্যদিকে সংঘাত ও হামলা-পাল্টা হামলা চলছেই। ওমানের সালালাহ টার্মিনালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দৈএনকে/জে, আ