রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট মেধা দিয়ে দেশ গড়তে হবে, বিদেশে গেলেও দেশের কথা ভাবতে হবে: ফরিদা খানম কারিগরি ত্রুটিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৫৬১ ‘আমাকে শুধু টাকা আয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখেছে’, পরিবার নিয়ে পপির ক্ষোভ এআই মডেলের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রোপিক সিইওর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুই মাসে বেনাপোলে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন
  • শুধুমাত্র ইগোর কারণে ভেঙে যায় মধুর সম্পর্ক

    শুধুমাত্র ইগোর কারণে ভেঙে যায় মধুর সম্পর্ক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষ সামাজিক জীব, এবং তার অস্তিত্ব সম্পর্কের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী বা আত্মীয়—সবকিছুই এক সূক্ষ্ম সম্পর্কের জালে বাঁধা। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সম্পর্ক ভাঙার সবচেয়ে বড় কারণ বড় কোনো অপরাধ নয়, বরং ছোট একটি মানসিক দুর্বলতা—ইগো।

    ইগো হলো নিজের অহংবোধ, নিজের সবসময় সঠিক মনে করা এবং অন্যের ভুল খুঁজে বেড়ানোর প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ইগো মানুষের মধ্যে self-centered thinking তৈরি করে, যা সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করে। যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে পারে না এবং সবসময় নিজের অবস্থানকে বড় করে দেখে, তাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি ভঙ্গুর হয়।

    দাম্পত্য জীবনে ইগো
    দাম্পত্য জীবনে ইগো সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। স্বামী বা স্ত্রী কেউ যদি “আমি আগে ক্ষমা চাইব না” বা “আমি কেন ছাড় দেব?”—এই মানসিকতায় থাকে, তাহলে ছোট ঝগড়াও বড় দূরত্বে পরিণত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দাম্পত্য জীবনে communication breakdown-এর অন্যতম কারণ হলো ইগো।

    বন্ধুদের সম্পর্ক
    বন্ধুত্ব টিকে থাকে আন্তরিকতা ও নম্রতার উপর। কিন্তু যখন কেউ নিজেকে বড় ভাবতে শুরু করে, তখন বন্ধুত্বে প্রতিযোগিতা ও দূরত্ব তৈরি হয়। বহু বছরের বন্ধুত্ব শুধু একটি “Sorry” না বলার কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে।

    পরিবার ও আত্মীয়স্বজন
    পরিবারে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি স্বাভাবিক। তবে ইগো থাকলে কেউই আগে এগিয়ে আসে না। বাংলাদেশে পারিবারিক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পারিবারিক দ্বন্দ্বের পেছনে থাকে অহংবোধ।

    কর্মক্ষেত্রে ইগো
    অফিসে ইগো পরিবেশকে বিষাক্ত করে। বস যদি নিজের ক্ষমতা নিয়ে অহংকার করেন বা কর্মী যদি নিজের ভুল স্বীকার না করেন—তাহলে টিমওয়ার্ক নষ্ট হয় এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়।

    প্রতিবেশী সম্পর্ক
    প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক অনেক সময় ছোট বিষয় নিয়েই খারাপ হয়ে যায়। ইগো থাকলে কেউ সমাধানের পথে আসে না, ফলে দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    সমাধানের পথ
    মনোবিজ্ঞানীরা কিছু সহজ উপায় প্রস্তাব করেছেন:

    1. ক্ষমা চাইতে শেখা: “Sorry” বলা দুর্বলতা নয়, সম্পর্ক বাঁচানোর শক্তি।
    2. নম্রতা ও ধৈর্য: অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করা।
    3. খোলামেলা যোগাযোগ: ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে।
    4. নিজের ভুল স্বীকার করা: সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
    5. সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া: জেতার চেয়ে সম্পর্ক বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ।
    6. সহমর্মিতা (Empathy): অন্যের জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভাবলে ইগো কমে যায়।

    গবেষণার আলোক

    • John Gottman Institute-এর মতে, সম্পর্ক টিকে থাকার জন্য নম্রতা ও পারস্পরিক সম্মান অপরিহার্য।
    • American Psychological Association (APA) বলছে, ইগো-কেন্দ্রিক আচরণ সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়।
    • কর্মক্ষেত্রে উচ্চ ইগো সম্পন্ন কর্মীরা টিমওয়ার্কে কম সফল।

    ইগো কখনোই সম্পর্ককে শক্তিশালী করে না; বরং ধীরে ধীরে তা ভেঙে দেয়। সামান্য নম্রতা বা একটি ছোট “Sorry” সম্পর্ককে বাঁচাতে পারে, যেখানে ইগো তা ধ্বংস করে দেয়। তাই সম্পর্কের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য ইগোর চেয়ে ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও নম্রতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ