যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হয়েছে পাকিস্তান। এনবিসি নিউজের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তা করছে ইসলামাবাদ এবং শিগগিরই সেখানে সরাসরি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং সংঘাত নিরসনে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানেও ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান।
সংঘাত শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তা পুরো সপ্তাহজুড়ে চলবে। তিনি বলেন, “আমরা পাঁচ দিনের সময় দিচ্ছি। অগ্রগতি হলে সমাধান সম্ভব, না হলে অভিযান চলবে।”
তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দাবি নাকচ করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাগের গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের সংকট আড়াল করতেই এমন বক্তব্য দিচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, কিছু বন্ধুসুলভ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং তার জবাবও দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক ও মিশর এই সংকটে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানসহ এশিয়ার অনেক দেশ জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক জানান, সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে এবং ইসলামাবাদে বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
হোয়াইট হাউজও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু নিশ্চিত করেনি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এসব সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো তথ্য নিশ্চিত ধরা উচিত নয়।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলে চলমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।