ইরানে সামরিক অভিযান কমানোর ইঙ্গিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একদিকে সামরিক অভিযান কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে যুদ্ধ প্রস্তুতিও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের অভিযান সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নয়।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন প্রতিপক্ষকে কার্যত পরাস্ত করা হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির প্রশ্ন ওঠে না। তার এই বক্তব্য যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে পূর্বের আশাবাদের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মহল থেকে জানা গেছে, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানসহ বিভিন্ন সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নতুন করে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকেই পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-এ উত্তেজনা বেড়েছে। এই রুট কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেই দেশগুলোরই নেওয়া উচিত, যারা এটি ব্যবহার করে।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, তাদের সামরিক পদক্ষেপ শত্রুপক্ষকে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে এবং দেশের ভেতরের ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা জ্বালানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত ও সামরিক প্রস্তুতির এই দ্বৈত বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করবে কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর।
সূত্র: আল-জাজিরা