আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে মারার সেই পুলিশ ভ্যান উদ্ধার, ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণের দাবি

মোঃ সাইদুল আলম তৌহিদ (সাভার) ঢাকা।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়ায় ছয়জনকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত সেই বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে আড়ালে লুকিয়ে রাখা গাড়িটি অবশেষে বাইপাইল এলাকায় পরিচালনা করা একটি জমি উচ্ছেদ অভিযানের সময় বেরিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে সরকারি জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনাকালে সেখানে থাকা পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডাম্পিং স্টেশনের পেছনে আড়ালে ঢেকে রাখা পোড়া ভ্যানটি সরানোর সময় এটি উপস্থিত সবার নজরে আসে।
পোড়া গাড়িটি উদ্ধারের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। তারা গাড়িটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী এবং নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্দোলনকারী আবিদুল আফিফ বলেন: আশুলিয়া থানার সামনে গত ৫ই আগস্ট আমাদের ছয়জন ভাইকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একজন তখনো জীবিত ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আজ জানতে পারলাম এটি ডাম্পিং এলাকা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের স্পষ্ট দাবি—আশুলিয়ার এই নির্মমতার স্মৃতি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী ও পুলিশের নারকীয়তার স্মারক হিসেবে এই ভ্যানটিকে অবিলম্বে 'জুলাই জাদুঘরে' সংরক্ষণ করা হোক।"
অন্য এক আন্দোলনকারী ফয়সাল হোসেন ফাল্গুন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন:
"আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই গাড়িটির খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিলাম। এই গাড়িটি আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত ও ত্যাগের এক নির্মম সাক্ষ্য বহন করছে। এটি সাধারণ ডাম্পিংয়ে ফেলে নষ্ট না করে জাদুঘরে সংরক্ষণ করাই যুক্তিসঙ্গত।"
বিষয়টি নিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা জেলার অফিসার ইনচার্জ (রিজার্ভ ফোর্স) শহিদুল আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বলেন: গাড়িটি আদালতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও মামলার প্রধান নথি, আইন মন্ত্রণালয়ের আদেশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া এটি সাধারণ বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব নয় তিনি আরো জানান যে,পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে।