হাম-ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩১৯২

দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে দুইজন এবং ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দুই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ১৯২ জন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
হামে আরও দুইজনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৩২ জন সন্দেহজনক এবং ৮২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
মার্চ থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৬০২ জন। এ সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৩ জন।
এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত হামে মোট ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে এবং ১ হাজার ৯ জনের মৃত্যু সন্দেহজনক হামের ক্ষেত্রে হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৫২ মৃত্যু
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৮ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি ১৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৯৭৮ জনসহ চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৫৯৮ জনে।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৮০৯ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ হাজার ৬৯৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৬৮৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩৫৮, বরিশালে ২৬০, খুলনায় ২৫৬, রাজশাহীতে ২০৯, রংপুরে ১০১, ময়মনসিংহে ৯৪ এবং সিলেটে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একদিকে হাম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুতেও হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।