বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মরিয়মের মৃত্যু: আপসনামার পরও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট হলে ব্যবস্থা: জ্বালানি মন্ত্রী আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৯৪৮ রামসু বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী: মাসব্যাপী উন্নয়ন কার্যক্রমের সমাপনী নীতি সুদহার ৯.৫০ শতাংশেই রাখল বাংলাদেশ ব্যাংক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ রাশেদ খাঁনের মিরপুরে সংঘর্ষের পর সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন মরিয়মের বাবার আপসনামা দাখিল, জামিন পেলেন মাকসুদা; কারাগারেই নজরুল
  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেই রাশিয়ার জ্বালানি খাতে সুবাতাস

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেই রাশিয়ার জ্বালানি খাতে সুবাতাস
    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে হঠাৎ করেই তেলের দাম বেড়ে গেছে। এতে লাভবান হচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার জ্বালানি খাত।

    যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলটিতে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ তেল আটকে গেছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

    এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের দামে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কয়েক মাস আগেও ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫৯ ডলারে নেমে এসেছিল। কিন্তু এখন তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।

    নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বাড়ছে রুশ তেলের চাহিদা
    ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার তেল এখন অনেক দেশের জন্য আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রশাসন সাময়িক ছাড় দেওয়ায় ভারতসহ কয়েকটি দেশ রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখতে পারছে।

    রাশিয়ার ইউরালস ক্রুড অয়েল এখন এতটাই চাহিদা সম্পন্ন যে, এটি ব্রেন্ট ক্রুডের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জাহাজে আটকে থাকা বিপুল তেলের চালানও ধীরে ধীরে বাজারে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও চীন রুশ তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে আমদানি বাড়িয়েছে।

    একদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে চাহিদার ঊর্ধ্বগতি- এই দুইয়ের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি আয় দ্রুত বাড়ছে।

    বাড়তি রাজস্বের সম্ভাবনা
    রাশিয়ার তেল কোম্পানি গ্যাজপ্রম নেফটের সাবেক কর্মকর্তা সের্গেই ভাকুলেঙ্কোর হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বাড়লে এক মাসে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি আয় ২৮০ কোটি ডলার বাড়তে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১৬০ কোটি ডলার সরাসরি ক্রেমলিনের কোষাগারে যায়।

    এর ফলে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে থাকা রাশিয়ার অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

    চীনের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়তে পারে
    সংকটের কারণে চীনও বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    দুই দেশ এরই মধ্যে সাইবেরিয়া থেকে চীনে গ্যাস সরবরাহের জন্য ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা
    তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ থেকে রাশিয়ার এই আর্থিক লাভ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

    এ ছাড়া সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বেড়ে গিয়ে বৈশ্বিক চাহিদা কমে যেতে পারে বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে পারে বিশ্ববাজার, যা শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন