শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন-এ্যানি বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের বিরুদ্ধে জাল বিল-ভাউচার ও দুর্নীতির অভিযোগ
  • যুদ্ধ নিয়ে ‘বিকৃত তথ্য’ ছড়ালে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল

    যুদ্ধ নিয়ে ‘বিকৃত তথ্য’ ছড়ালে সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের দাবি, কিছু সংবাদমাধ্যম যুদ্ধসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বিকৃত ও ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার গত শনিবার (১৪ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে, না হলে তাদের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    তিনি লেখেন, ‘যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ভুয়া খবর বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে পথ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’

    ব্রেন্ডন কার এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেলের শো-তে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করায় তিনি এবিসি চ্যানেলকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    যুদ্ধের সংবাদ নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ
    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করেছেন। সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন রিফুয়েলিং প্লেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্লেনগুলো ধ্বংস হয়নি। পাঁচটি প্লেনের মধ্যে চারটিই সচল রয়েছে। নিম্নমানের সংবাদপত্র এবং মিডিয়াগুলো চায় আমরা যুদ্ধে হেরে যাই।’

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও যুদ্ধ সংক্রান্ত খবর নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে তিনি সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল- হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।

    সাংবাদিকদের ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ বলেন, গণমাধ্যমের উচিত ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে’—এমন নেতিবাচক হেডলাইনের বদলে ‘ইরান মরিয়া হয়ে উঠছে’—এ ধরনের ইতিবাচক শিরোনাম ব্যবহার করা।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
    ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘সেন্সরশিপ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজনীতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

    হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, এটি স্পষ্টতই যুদ্ধের ইতিবাচক প্রচার করার জন্য একটি নির্দেশ, অন্যথায় লাইসেন্স হারানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজ্যুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনসের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক অ্যারন টার বলেন, সরকার যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

    তার কথায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সেন্সর করার অনুমতি দেয় না।’

    যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী জনমত
    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

    সাম্প্রতিক কুইনিপিয়াক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে বিরোধিতা সবচেয়ে বেশি।

    আইনি বিশেষজ্ঞরা এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

    তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘আমরা জিতে গেছি। প্রথম এক ঘণ্টাতেই সব শেষ হয়ে গেছে।’


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন