দোয়া কবুল না হওয়ার মূল কারণ জানেন কি?

মানুষ অনেক সময় একাগ্রচিত্তে প্রার্থনা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায় না। ইসলামি গবেষক ও স্কলারদের মতে, দোয়া কবুল না হওয়ার প্রধান ও বড় বাধা হলো মানুষের কৃত ‘গুনাহ’ বা পাপ। এই গুনাহগুলো আল্লাহর রহমতের দরজার সামনে এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, যা দোয়ার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে।
অন্তর পরিষ্কার ও ইস্তিগফারের প্রয়োজনীয়তা
দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত হিসেবে অন্তরকে কলুষমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কেবল কান্নাকাটি বা রাত জাগরণই যথেষ্ট নয়, বরং কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হওয়া এবং তওবা করা জরুরি। পবিত্র কুরআনের সূরা নূহের ১০-১২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন...”।
এই আয়াতটি স্পষ্ট করে যে, ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে কেবল গুনাহই মোচন হয় না, বরং পার্থিব জীবনে রিজিক, সন্তান ও শান্তির দুয়ারও খুলে যায়।
হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের সুফল
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একাধিক হাদিসে ইস্তিগফারকে জীবনের সংকট মুক্তির চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুনান আবু দাউদের এক বর্ণনায় (হাদিস: ১৫১৮) এসেছে, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে অভ্যাসে পরিণত করে, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা ও সংকট থেকে মুক্তির পথ করে দেন এবং তাকে অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন।
আলেমদের মতে, দোয়ার কার্যকারিতা নির্ভর করে পবিত্রতার ওপর। তওবা ছাড়া দোয়া করা অনেকটা পঙ্কিলতা নিয়ে স্বচ্ছতার আশা করার মতো। তাই দোয়া করার আগে ইস্তিগফারের মাধ্যমে মনের দাগ মুছে ফেলা এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার দৃঢ় সংকল্প করা প্রয়োজন। যখন কোনো মুমিন গুনাহের দেয়াল ভেঙে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তখন তার দোয়া ও আল্লাহর রহমতের মাঝে আর কোনো বাধা থাকে না।
পরিশেষে, বর্তমান অস্থির সময়ে মানসিক প্রশান্তি ও দোয়া কবুলের পথ প্রশস্ত করতে দৈনন্দিন জীবনে অধিক হারে ইস্তিগফারের চর্চা করার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মবেত্তারা।
দৈএনকে/জে, আ