সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চলে ৮ লাখের বেশি রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল সরকারের বড় সাফল্য স্বাস্থ্যখাতের ওপর নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান অপ্রতিম হত্যায় অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, উঠছে প্রশ্ন মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলসহ প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার, মামলা লাইব্রেরিতে বই হাতে অপু বিশ্বাস, কী বার্তা দিচ্ছেন তিনি! স্মার্টফোনে ভালো ছবি তুলতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত যাত্রাবাড়ীতে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে ১০ ককটেল উদ্ধার নমপেনে অনলাইন স্ক্যাম: ৯ বাংলাদেশি নাগরিক আটক
  • নাপাক কাপড় থেকে পবিত্রতার নিশ্চয়তা পাবেন কিভাবে

    নাপাক কাপড় থেকে পবিত্রতার নিশ্চয়তা পাবেন কিভাবে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দৈনন্দিন জীবনে ইবাদত কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো শরীর ও পোশাকের পবিত্রতা। অসাবধানতাবশত কাপড়ে বা বিছানায় নাপাকি লেগে গেলে তা পবিত্র করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ইসলামি শরিয়তে বর্ণিত হয়েছে। অনেক সময় সঠিক নিয়ম না জানার কারণে আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নাপাক কাপড় পবিত্র করার তিনটি প্রধান ধাপ ও বিশেষ পদ্ধতিগুলো আজ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

    ১. দৃশ্যমান নাপাকি দূর করার নিয়ম

    যদি কাপড়ে রক্ত, পায়খানা বা বমির মতো দৃশ্যমান নাপাকি লাগে, তবে তা ধুয়ে দূর করে দিলেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তিনবার ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং নাপাকি দূর হওয়াটাই মূল লক্ষ্য।

    • হাদিসের প্রমাণ: সাহাবী খাওলা বিনতে ইয়াসার (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হায়েজের রক্তের দাগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "রক্ত ধৌত করাই তোমার জন্য যথেষ্ট, এর চিহ্ন (দাগ) থেকে গেলে কোনো ক্ষতি নেই।" (সুনানে আবু দাউদ- ৩৬৫)

    ২. অদৃশ্যমান নাপাকির ক্ষেত্রে করণীয়

    যদি প্রস্রাবের মতো এমন নাপাকি লাগে যার রঙ বা চিহ্ন দৃশ্যমান নয়, তবে তা ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে প্রবল ধারণা জন্মানোর জন্য তিনবার ধোয়া এবং প্রতিবার নিংড়ানো উত্তম। রাসূল ﷺ ঘুম থেকে উঠে হাত তিনবার ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    ৩. ভারী কাপড় বা বিছানা পবিত্র করার বিশেষ পদ্ধতি

    লেপ, তোষক বা ভারী কম্বলে নাপাকি লাগলে যা নিংড়ানো সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো:

    • তিনবার ধোয়া: একবার পানি দিয়ে ধুয়ে রেখে দিতে হবে, পানি ঝরে গেলে দ্বিতীয়বার এবং এভাবে মোট তিনবার ধুতে হবে।

    • বিকল্প পথ: যদি ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে নাপাক জায়গার ওপর অন্য কোনো পবিত্র কাপড় বা জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়া যাবে।


    বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ সমাধান (সহজ পাঠ)

    ক. হায়েজের রক্ত লেগে গেলে: বিছানায় রক্ত লাগলে তা ধোয়ার পর যদি দাগ থেকে যায়, তবে চিন্তার কিছু নেই; মূল নাপাকি উঠে গেলেই তা পবিত্র। মা আয়েশা (রা.) বলেন, তারা নাপাকি আঙুল দিয়ে খুঁটিয়ে ফেলে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতেন।

    খ. বীর্য লেগে থাকলে: যদি বীর্য লেগে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, তবে তা খুঁটিয়ে বা ঘষে ফেলে দিলেই কাপড় পবিত্র হবে। কিন্তু বীর্য যদি ভেজা থাকে, তবে উক্ত স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

    গ. শিশুর প্রস্রাব-পায়খানা: ফ্লোরে বা মেঝেতে শিশু প্রস্রাব করলে পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিলেই হবে। কিন্তু তোষক বা কম্বলে করলে তা তিনবার ধোয়ার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে অথবা ওপরে অন্য কাপড় বিছিয়ে নিতে হবে।

    উপসংহার

    ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অপরিহার্য। শরিয়তের এই সহজ ও সঠিক নিয়মগুলো মেনে চললে ইবাদতে যেমন একাগ্রতা আসে, তেমনি মনের খুতখুতে ভাবও দূর হয়।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ