শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • জেন-জি পুরুষদের সম্পর্ক ও সংসারে রক্ষণশীল মানসিকতা আন্তর্জাতিক জরিপে প্রকাশ

    জেন-জি পুরুষদের সম্পর্ক ও সংসারে রক্ষণশীল মানসিকতা আন্তর্জাতিক জরিপে প্রকাশ
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সমাজ সাধারণত সমতার দিকে এগোচ্ছে—এটাই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু নতুন এক আন্তর্জাতিক জরিপ বলছে, বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বের ২৯টি দেশে করা গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ পুরুষ এখনও সম্পর্ক ও সংসারে রক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করেন। এমনকি অনেকের বিশ্বাস, স্ত্রীকে সব সময় স্বামীর কথা মানতে হবে।

    আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষিতে ৫ মার্চ প্রকাশিত এই জরিপটি করেছে কিংস কলেজ লন্ডন ও ইপসোস। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া সহ ২৯টি দেশের মানুষের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জেন-জি প্রজন্মের (১৯৯৭–২০১২ সালে জন্ম) প্রায় ৩১ শতাংশ পুরুষ মনে করেন—“স্ত্রীকে সব সময় স্বামীর কথা মানতে হবে।” তুলনামূলকভাবে, বেবি বুমার প্রজন্মের পুরুষদের মধ্যে এই সমর্থন মাত্র ১৩ শতাংশ।

    নারীদের মধ্যে ব্যবধান আরও বড়। জেন-জি নারীদের মাত্র ১৮ শতাংশ মনে করেন স্ত্রীর উচিত স্বামীর কথা মানা, আর বেবি বুমার নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ। ফলে নতুন প্রজন্মের পুরুষ ও নারীদের চিন্তাভাবনায় স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। জরিপে আরও প্রকাশ পেয়েছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ পুরুষ মনে করেন, সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শেষ কথা বলার অধিকার স্বামীরই থাকা উচিত।

    তবে জেন-জি পুরুষদের মধ্যে এক ধরনের দ্বৈত মানসিকতাও দেখা গেছে। একদিকে ৪১ শতাংশ তরুণ পুরুষ বলেছেন, সফল ক্যারিয়ার থাকা নারী তাদের কাছে আকর্ষণীয়। অন্যদিকে ২৪ শতাংশ মনে করেন, নারীর অতিরিক্ত স্বাধীনতা বা স্বনির্ভরতা ঠিক নয়। এছাড়া ২১ শতাংশ জেন-জি পুরুষের ধারণা, একজন সত্যিকারের নারী যৌন সম্পর্কে প্রথম উদ্যোগ নেবে না। বেবি বুমারদের মধ্যে এই সমর্থন মাত্র ৭ শতাংশ।

    গবেষণায় পুরুষদের নিজেদের ওপর চাপও ফুটে উঠেছে। প্রায় ৩০ শতাংশ জেন-জি পুরুষ মনে করেন, পুরুষদের সঙ্গীকে “আই লাভ ইউ” বলা উচিত নয়। বেবি বুমারদের মধ্যে এই সমর্থন ২০ শতাংশ।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই তথ্য দেখাচ্ছে যে তরুণ পুরুষরা শুধু নারীদের জন্য নয়, নিজেদের জন্যও কঠোর ও সীমাবদ্ধ সামাজিক মানদণ্ড তৈরি করছেন। তাছাড়া, অনেক সময় মানুষ ব্যক্তিগতভাবে যতটা রক্ষণশীল নয়, সমাজকে তারা তার চেয়েও বেশি রক্ষণশীল মনে করেন। বিশ্বজুড়ে ৩১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সমাজ আশা করে পরিবারের সিদ্ধান্তে শেষ কথা বলবে পুরুষ, অথচ ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ২১ শতাংশ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জরিপ একটি জটিল বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একদিকে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ঐতিহ্যগত ভূমিকার দিকে ঝুঁকছেন, অন্যদিকে বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই সমতা ও নমনীয় সম্পর্কের পক্ষে। তাই ভবিষ্যতের সম্পর্ক ও পারিবারিক কাঠামো নির্ভর করবে সমাজ কীভাবে এই পরিবর্তনশীল ধারণাগুলোকে গ্রহণ ও সামঞ্জস্য করবে তার ওপর।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ