ইসলামী ইতিহাসে অনন্য ঘটনা: মৃত্যুর ফেরেশতার কান্না

সৃষ্টিজগতের প্রতিটি প্রাণের নির্ধারিত সময়ে জান কবজ করাই হযরত আজরাইল (আ.)-এর দায়িত্ব। মহান আল্লাহর আদেশে অত্যন্ত কঠোর হৃদয়ে তিনি এই কাজ সম্পাদন করলেও, কোটি কোটি মানুষের প্রাণ হরণের মাঝে একটি ঘটনা স্বয়ং মৃত্যুর ফেরেশতার চোখেও পানি এনে দিয়েছিল। আল্লাহর অসীম কুদরত এবং এক অনাথ শিশুর আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে থাকার সেই কাহিনী আজও মুমিনদের হৃদয়ে কম্পন সৃষ্টি করে।
সমুদ্রের বুকে সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্ত
বর্ণিত আছে, একবার মাঝ সমুদ্রে একটি বিশাল জাহাজ প্রচণ্ড তুফানের কবলে পড়ে চুরমার হয়ে যায়। জাহাজের সব যাত্রী মারা গেলেও একটি কাঠের তক্তা ধরে বেঁচে ছিলেন এক মা এবং তাঁর দুগ্ধপোষ্য শিশু। সেই মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা আজরাইল (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন সেই মায়ের জান কবজ করতে।
আজরাইল (আ.) যখন দেখলেন, জনমানবহীন উত্তাল সমুদ্রে একাকী এক অসহায় শিশু তার মায়ের বুকে পরম মমতায় লেগে আছে, আর সেই মুহূর্তেই মাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে— তখন তাঁর মনে প্রবল মায়া জাগল। তিনি ভাবলেন, এই অথৈ সাগরে মা ছাড়া এই ছোট্ট শিশুটি কীভাবে বাঁচবে? আল্লাহর নির্দেশ পালন করে মায়ের জান কবজ করলেও, শিশুটির করুণ পরিণতির কথা ভেবে সেদিন আজরাইল (আ.) অঝোরে কেঁদেছিলেন। এটিই ছিল তাঁর দীর্ঘ দায়িত্বপালন জীবনে একমাত্র কান্নার ঘটনা।
আল্লাহর পরিকল্পনা: ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্থান
গল্পের মোড় এখানেই শেষ নয়। মানুষ যাকে অসহায় ভেবে নিরাশ হয়, আল্লাহ তাকেই তাঁর কুদরতি হাত দিয়ে রক্ষা করেন। বছরের পর বছর পর সেই অসহায় শিশুটিই আল্লাহর বিশেষ রহমতে এক মহান আলেম এবং তাঁর সময়ের এক প্রতাপশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে ওঠেন। আল্লাহ তাঁকে সমুদ্রের ঢেউ থেকে বাঁচিয়ে কেবল জীবনই দেননি, বরং সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
শিক্ষা: আল্লাহর ফয়সালায় অবিচল আস্থা
এই ঘটনা আমাদের এক মহান শিক্ষা দেয় যে, আল্লাহ যখন কারো কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেন, তখন তাঁর রহমতের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় না। তিনি যাকে ইচ্ছা, যেখানে ইচ্ছা বাঁচিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখেন। মানুষের পরিকল্পনা যেখানে শেষ হয়, আল্লাহর কুদরত সেখান থেকেই শুরু হয়। তাই কঠিন বিপদেও বিচলিত না হয়ে মহান রবের ওপর ভরসা রাখাই ঈমানের দাবি। আলহামদুলিল্লাহ!
দৈএনকে/জে, আ