হরমুজ প্রণালী বন্ধে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ব্যাহত হয়েছে। রফতানি বন্ধের কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১.১১ ডলার বা ১.৪ শতাংশ বেড়ে ৮২.৫৩ ডলার এ পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ বেড়ে ৭৫.৩৭ ডলার এ দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এই হামলার কারণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষতি হয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ইরাকও উৎপাদন কমিয়েছে। মজুদের সীমাবদ্ধতা এবং রফতানি রুট বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, যা দেশটির মোট উৎপাদনের অর্ধেক। যদি রফতানি পুনরায় শুরু না হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন স্থগিত করতে হতে পারে।
ইরান হরমুজ প্রণালীতেও ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই রুটে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর চতুর্থ দিনের জন্য প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যাতে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তিনি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে জাহাজ মালিক ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সামরিক এসকর্ট ও বীমা কি বিশ্ববাজারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হবে? দেশ ও কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট ও সরবরাহ খুঁজছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে, আবার কিছু চীনা শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
দৈএনকে/জে, আ