তেহরানে ক্ষমতার পালাবদল, কার হাতে যাবে নেতৃত্ব?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা। বৈঠকটি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস তিনজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞ পরিষদ বুধবার সকালের মধ্যেই তাঁর নাম ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনা করছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সিদ্ধান্তে বিলম্ব হতে পারে বলে জানা গেছে। পরিষদের কিছু সদস্যের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে নাম ঘোষণা করা হলে তিনি সরাসরি বিদেশি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন।
এর আগে নির্ধারিত সভাস্থল কোম শহরের একটি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে সদস্যরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেওয়ায় হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা দীর্ঘদিন ধরে নেপথ্যে থেকে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে আসছেন। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞ কাউকেই নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন।
তবে সমালোচকদের মতে, তাঁর নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থী প্রভাব আরও দৃঢ় হতে পারে।
মোজতবা ছাড়াও আরও দুজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। একজন হলেন আলী রেজা আরাফি, যিনি প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও আইনবিদ হিসেবে পরিচিত। অন্যজন সৈয়দ হাসান খোমেনি, ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি। তাঁকে তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী হিসেবে দেখা হয়।
এদিকে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে যদি আগের মতো কঠোর নীতি অনুসরণকারী কেউ ক্ষমতায় আসেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে থাকে। দেশটির ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বার, যখন পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো। বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।