লিখে রাখা দুরুদও দেয় সওয়াব

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নাম মোবারক শুনলে বা পড়লে দরুদ পাঠ করা ঈমানি দায়িত্ব। তবে আধুনিক যুগে লেখালেখির ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই সংক্ষেপে (সা.) লিখে দায়িত্ব শেষ করি। অথচ কিতাব ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, দরুদ শরীফ মুখে পড়ার পাশাপাশি তা পূর্ণাক্ষরে লেখার মধ্যে রয়েছে এমন এক স্থায়ী সওয়াব, যা লেখক ঘুমিয়ে থাকলেও তার আমলনামায় জমা হতে থাকে।
হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন বর্ণনায় দরুদ লেখার বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো লেখার মধ্যে আমার ওপর দরুদ লিখে, যতদিন সেই লেখায় আমার নাম বিদ্যমান থাকবে, ততদিন তার জন্য সেই দরুদ পাঠের সওয়াব অব্যাহতভাবে লিখিত হতে থাকবে।" (তাবরানি, মু‘জামুল কাবীর)।
একই প্রসঙ্গে ইমাম জাফর সাদিক (র.)-এর একটি শক্তিশালী বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি কোনো লেখায় রাসূলুল্লাহর ওপর দরুদ লেখে, ফেরেশতারা সকাল ও সন্ধ্যায় সেই ব্যক্তির জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকে—যতদিন সেই পাতায় দরুদটি অবশিষ্ট থাকে।" (মু'জামুল আওসাত)।
দরুদ লেখার বরকত যে কত বিশাল, তা ফুটে ওঠে ইসলামের ইতিহাসের এক কিংবদন্তি হাদিস বিশারদের ঘটনা থেকে। বর্ণিত আছে, এক প্রসিদ্ধ আলেমকে তাঁর মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখা গেলে জিজ্ঞেস করা হয়, "আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?"
তিনি উত্তর দেন, "আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।" যখন তাঁর কাছে এই ক্ষমার কারণ জানতে চাওয়া হলো, তিনি বললেন, "হাদিস ও কিতাব লেখার সময় আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামের পাশে যে দরুদ শরীফ লিখতাম, মূলত সেই উসিলাতেই আল্লাহ আমাকে নাজাত দিয়েছেন।" (জালাউল আফহাম)।
বর্তমানে মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা ডায়েরিতে আমরা দ্রুততার খাতিরে কেবল 'সা.' বা 'SWS' লিখে থাকি। কিন্তু আলেমরা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' লিখলে লেখক এক অভাবনীয় সুযোগ লাভ করেন। কারণ ওই কাগজ বা ডিজিটাল স্ক্রিনে লেখাটি যতদিন সংরক্ষিত থাকবে, লেখক ততদিন ফেরেশতাদের দোয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজ, ব্যক্তিগত নোট বা প্রিয়জনকে পাঠানো মেসেজে পূর্ণ দরুদ লেখার অভ্যাস করা ছোট মনে হলেও এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী। লেখকের কলমের কালি শুকিয়ে গেলেও বা লেখক নিজে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেও, তার লেখা দরুদটি হতে পারে কিয়ামতের কঠিন দিনে মুক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উসিলা।
দৈএনকে/জে, আ