শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
গণভোটের ফল পুনর্গণনায় চমক

১০ লাখের বেশি ভোট কমিয়ে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ

১০ লাখের বেশি ভোট কমিয়ে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার তথা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন। পূর্বে প্রকাশিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’—উভয় ভোটই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি বেড়েছে বাতিল ভোটের সংখ্যা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে জারি করা এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, কমিশনের আদেশক্রমে আগের গেজেটে প্রকাশিত ভোটের হিসাব পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল প্রথমবার ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি, যার মধ্যে বাতিল হয় ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।

তবে সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টিতে। ‘না’ ভোট হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। সব মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি।

অন্যদিকে বাতিল ভোটের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি, যা পূর্বের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেশি। ফলে বৈধ ভোটের মোট সংখ্যা নেমে এসেছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টিতে।

ভোটের সংখ্যায় এমন বড় ধরনের পার্থক্য কী কারণে ঘটেছে—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। শুধু জানানো হয়েছে, কমিশনের নির্দেশক্রমে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতেই পারে। বিশেষ করে যখন মোট ভোট, বৈধ ভোট ও বাতিল ভোট—তিন ক্ষেত্রেই ভিন্নতা দেখা যায়। তারা মনে করেন, এ ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে কমিশনের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা অটুট থাকে।

উল্লেখ্য, এই গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সংশোধিত ফলাফল নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার জন্ম দিতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন