শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় ব্যারিস্টার মারিয়াম

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় ব্যারিস্টার মারিয়াম
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন বগুড়ার কৃতি আইনজীবী ও বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী প্রজ্ঞার নাম উঠে আসছে জোরালোভাবে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে কাদের মনোনয়ন দেবে—তা নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা।

দলীয় সূত্র বলছে, শুধু পরিচিতি নয়—দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজপথের সাহসী ভূমিকা, তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ এবং পেশাগত সততা—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী প্রজ্ঞা ২০১৫ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, যখন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছিল দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক—সেই সময়ও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য হিসেবে তিনি শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি লড়াইয়েও ছিলেন সক্রিয়। বিরোধী নেতাকর্মীদের মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতায় সহযোগিতা করেছেন পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।

বগুড়ার শান্তাহার (আদমদীঘি) তাঁর স্থায়ী ঠিকানা। বগুড়া ও নওগাঁ অঞ্চলে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো, আইনি পরামর্শ দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তিনি একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি বগুড়া জেলার প্রথম মহিলা ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচিত, যা অনেক তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণা বলেও মন্তব্য করেন দলীয় নেতারা।

এছাড়া তিনি বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিনা পারিশ্রমিকে সহায়তা দেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর।

দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রায় ৫০০টি গাছ রোপণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ইফতার মাহফিল, শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

একটি শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক চেতনার ভিত গড়ে উঠেছে পরিবারিক ত্যাগের ইতিহাস থেকে। ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল তাঁর পরিবারের ১৭ জন সদস্য নিহত হন—যা স্থানীয়ভাবে গভীরভাবে আলোচিত একটি ঘটনা। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, সেই ইতিহাসই তাঁকে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে থাকতে অনুপ্রাণিত করেছে।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বহু প্রার্থীর নমিনেশন জটিলতা ও আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে তিনি পেশাগত দক্ষতারও প্রমাণ দিয়েছেন। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনে এমন একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয়ভাবে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

তবে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবুও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা—বিগত দমন-পীড়নের সময় রাজপথে সক্রিয়, পেশায় দক্ষ, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য এবং সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত নারী নেতৃত্বদের মধ্যেই খুঁজছে বিএনপি তাদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধি। সেই আলোচনায় ব্যারিস্টার মারিয়াম চৌধুরী প্রজ্ঞার নাম ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন