বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • স্মৃতিতে বেঁচে আছেন গ্যাভিন প্যাকার্ড

    স্মৃতিতে বেঁচে আছেন গ্যাভিন প্যাকার্ড
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    নব্বইয়ের দশকের বলিউডের মারপিট বা অ্যাকশন দৃশ্য মানেই ছিল পেশিবহুল, দীর্ঘদেহী এক প্রতিপক্ষের উপস্থিতি। ‘সড়ক’, ‘মোহরা’, কিংবা ‘করণ অর্জুন’-এর মতো কালজয়ী সব ছবিতে পর্দার নায়কদের ত্রাস হিসেবে আবির্ভূত হতেন গেভিন প্যাকার্ড। কিন্তু রুপালি পর্দার সেই ‘ভয়ংকর’ মানুষটির বাস্তব জীবনের গল্পটা ছিল পর্দার চেয়েও বেশি বিষণ্ণ এবং শেষটা ছিল অত্যন্ত নির্মম।

    আমেরিকান বংশোদ্ভূত গেভিন প্যাকার্ড ছিলেন ভারতের জাতীয় পর্যায়ের একজন বডিবিল্ডার। তবে তাঁর পরিচয় কেবল অভিনয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। বলিউডের অনেক বড় তারকার শারীরিক গঠনের কারিগর ছিলেন তিনি। সঞ্জয় দত্ত ও সুনীল শেঠির মতো তারকাদের ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। পর্দায় খুব বেশি সংলাপ না থাকলেও তাঁর শক্তিশালী শারীরিক উপস্থিতি আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত।

    ব্যক্তিগত জীবনে গেভিন বিয়ে করেছিলেন অ্যাভরিলকে। তাঁদের দুই মেয়ে কামিল ও এরিকা প্যাকার্ড (বর্তমানে নামকরা মডেল)। তবে দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনে একসময় স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তিনি। জীবনের শেষ দিনগুলোতে যখন তিনি চরম আর্থিক সংকট ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখন তাঁর পাশে পরিবার বলতে কেউ ছিল না।

    জীবনের শেষ কয়েক বছর গেভিন প্যাকার্ড ফুসফুসের গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন। কাজ হারিয়ে এবং অসুস্থ শরীর নিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁর ছোট ভাই ডেরিল প্যাকার্ডের কাছে। যে মানুষটি একসময় মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার দুনিয়ায় নিয়মিত পদচারণা করতেন, তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল চরম নিভৃতে ও অবহেলায়।

    ২০১২ সালে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে গেভিন প্যাকার্ড পরপারে পাড়ি জমান। মুম্বাইয়ের বান্দ্রার সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তবে সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, যাঁর হাত ধরে অনেক নায়ক শরীরী সৌন্দর্য পেয়েছিলেন, সেই ইন্ডাস্ট্রির কোনো বড় তারকাকে তাঁর শেষযাত্রায় দেখা যায়নি। বলিউডের রঙিন জগত যেন এক নিমিষেই ভুলে গিয়েছিল তাঁদের সেই পুরনো সহকর্মীকে।

    গ্ল্যামার জগতের নিষ্ঠুর বাস্তবতার এক অনন্য প্রতীক হয়ে রইলেন গেভিন প্যাকার্ড। জনপ্রিয়তা আর পরিচিতি থাকলেও জীবনের শেষ বেলাটা যে কতটা নির্মম হতে পারে, গেভিনের গল্পটি বারবার সেই সতর্কবার্তা দিয়ে যায়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন