আবারো বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

এবার ইরানের শিক্ষার্থীরা বড় পরিসরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নেমেছেন গত মাসে প্রাণঘাতী দাঙ্গা ও দমন-পীড়নের পর। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।
বিবিসির যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী মিছিল করছেন। পরে সেখানে সরকারপন্থি সমাবেশকারীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ধরা পড়ে ভিডিওতে।
তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভে নিহত হাজারো মানুষের স্মরণে এসব কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
দেশটিতে এমন সময় বিক্ষোভ আবার শুরু হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় ব্যাপক হতাহত ছাড়াও পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে ইরানকে চাপে ফেলতে চাইছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের ধারণা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে তেহরান।
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই দাবি করেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
তবে ট্রাম্প পরে মন্তব্য করেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে—ইরানের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেবে।’ এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে।’
বিবিসি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন সেমিস্টারের শুরুতে শনিবার শরীফ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে জাতীয় ইরানি পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা “স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক” স্লোগান দেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদ-এ শিক্ষার্থীরা “স্বাধীনতা, স্বাধীনতা” এবং “শিক্ষার্থীরা, নিজেদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তোলো” স্লোগান দেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। দেশটির আরও বিভিন্ন স্থানে বড় সমাবেশেরও খবর পাওয়া গেছে এবং সমাবেশ থেকে রোববার নতুন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।
এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে গেল মাসে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশটিতে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) জানিয়েছে, ওই আন্দোলনে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ শিশু এবং ২১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০-এর কিছু বেশি, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
দৈএনকে/জে, আ