ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল: আদায় করা ১৩৩ বিলিয়ন ডলার ফেরত নিয়ে অনিশ্চয়তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জারি করা জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই রায়ে শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হলেও ইতোমধ্যে আদায় করা ১৩৩ বিলিয়ন ডলার কীভাবে এবং কারা ফেরত পাবেন—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমদানিকারকদের কাছ থেকে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়েছে। আদালতের রায়ের পর এ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, হলে কী প্রক্রিয়ায় দেওয়া হবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ইলিনয়স অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে বি প্রিৎজকার ট্রাম্পের কাছে চিঠি দিয়ে তার অঙ্গরাজ্যের পরিবারগুলোর জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ফেরত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, শুল্কের প্রভাবে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার দাবি, প্রতিটি পরিবারকে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার ফেরত দেওয়া উচিত। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়-এর গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর গড়ে প্রতিটি মার্কিন পরিবার প্রায় ওই পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, আমদানিকারক কোম্পানিগুলোও শুল্ক ফেরতের দাবিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ফেরতের পথ সহজ নয় বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। পেন-হোয়ার্টন বাজেট মডেল-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ফেরতের পরিমাণ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুল্ক ফেরতের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সাধারণ আমেরিকানরা সরাসরি অর্থ পাবেন কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ফেরত দিলে তা মূলত আমদানিকারকদের কাছেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
রায়ে ভিন্নমত দেওয়া বিচারপতি ব্রেট কাভানাফ বলেছেন, আদায় করা অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে বা আদৌ দেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে আদালত কিছু বলেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আইনজীবীদের ধারণা, বিষয়টি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন এবং কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে। অতীতে বাণিজ্য–সংক্রান্ত মামলায় আদালত ফি ফেরতের ব্যবস্থা করেছে—এমন নজির রয়েছে। তবে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার অভিজ্ঞতা আগে হয়নি।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, বিষয়টি কয়েক বছর আদালতে চলতে পারে। ফলে ১৩৩ বিলিয়ন ডলার শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে—সাধারণ ভোক্তা, নাকি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান—তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: এপি।