বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর স্বাগতিক তুরস্ক

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে তুরস্ক। দেশটির মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৬২ শতাংশ এখন নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও ভূ-তাপীয় শক্তির মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর ফলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় সবুজ জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে তুরস্ক নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বেড়েছে। এতে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এ অগ্রগতি তুরস্ককে আঞ্চলিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হাবে পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণেও দেশটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
জ্বালানি খাতে টেকসই উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার ‘জেমরে ফান্ড’-এর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে মোট স্থাপিত সক্ষমতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৬২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এরদোয়ান আরও জানান, বনায়নের ক্ষেত্রে তুরস্ক বিশ্বে শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ইউরোপে বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধিতে দ্রুত অগ্রসরমান দেশগুলোর মধ্যেও তুরস্ক অন্যতম।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে আজ পুরো বিশ্ব কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, জলবায়ু ও পরিবেশ সংকট উপেক্ষা করা আর সম্ভব বা সঠিক নয়।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান পরিবেশ সচেতনতাকে মাতৃভূমির চেতনা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেতনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য আরও বাসযোগ্য, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন তুরস্ক গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, তুরস্ক এ বছর আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ আয়োজন করবে, যেখানে প্রায় ২০০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এরদোয়ান বলেন, এখন আর শুধু কথার সময় নয়, কাজের সময়।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ প্রকল্পে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য করা হয় না; প্রকৃতি রক্ষায় সহায়ক প্রতিটি পদক্ষেপকেই সরকার সমর্থন করে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড