প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজপথে বাঁধা, ব্রিটিশ সরকার নতুন পদক্ষেপে

যুক্তরাজ্য সরকার নতুন একটি বিল আনার বিষয় বিবেচনা করছে, যাতে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু কখনো ব্রিটেনের রাজা হতে না পারেন। কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যে অ্যান্ড্রুর নামও উঠে এসেছে। এরপর তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, সরকার এমন একটি আইন প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মাধ্যমে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর রাজকীয় উত্তরাধিকার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়বেন। েলিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা এড ডেভি বলেন, ‘সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উত্তরাধিকার প্রশ্নটি সংসদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। স্বাভাবিকভাবেই রাজতন্ত্র চাইবে তিনি যেন কখনই রাজা হতে না পারেন।’
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিন ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সানকে বলেন, ‘এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়ে মিথ্যা বলা একজন ব্যক্তি এখনও রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পথে থাকতে পারেন এটা জনগণের জন্য ক্ষোভের বিষয়।’ কনজারভেটিভ পার্টির শ্যাডো স্কটল্যান্ড সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু বোয়ি বলেন, ‘অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। যদি তিনি এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে সংসদের পূর্ণ অধিকার থাকবে তাকে রাজকীয় উত্তরাধিকার থেকে অপসারণ করার।’
এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সম্পূর্ণভাবে রাজকীয় উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত এবং মাত্র ৬ শতাংশ মনে করেন, তিনি তালিকায় থাকতে পারেন। দেশটিতে কাউকে রাজকীয় উত্তরাধিকার থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা সর্বশেষ ঘটে ১৯৩৬ সালে। ওই সময় সাবেক রাজা এডওয়ার্ড অষ্টম ও তার বংশধরদের ওয়ালিস সিম্পসন নামের এক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তের কারণে উত্তরাধিকার থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর
বৃহস্পতিবার ৬৬ বছর বয়সী অ্যান্ড্রুকে টেমস ভ্যালি পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং ১১ ঘণ্টা পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়। থেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেন, ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর আমরা পাবলিক অফিসে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছি।’
রাজা চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ট্রেড এনভয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ২০১৯ সালে রাজকীয় সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে তার সরকারি সফরের তথ্য পাঠিয়েছিলেন।
নথিতে আরও বলা হয়, ৩০ নভেম্বর তিনি ওই সফরসংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদন তার তৎকালীন বিশেষ সহকারীর কাছ থেকে পাওয়ার পরপরই এপস্টেইনের কাছে ফরোয়ার্ড করেন। এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে রাজকীয় উত্তরাধিকার ব্যবস্থা ও সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
দৈএনকে/জে, আ