শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে সালাহউদ্দিন-এ্যানি বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রহিমের বিরুদ্ধে জাল বিল-ভাউচার ও দুর্নীতির অভিযোগ
  • ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা, আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ

    ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা, আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, তিনি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পাত্তা দেবেন না। ৬–৩ ভোটে সর্বোচ্চ আদালত তার গ্লোবাল শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের অধীনে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। আল-জাজিরা

    সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে, ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) মাধ্যমে শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা অবৈধ। আদালত জানিয়েছে, কংগ্রেস ছাড়া শুল্ক আরোপ করা সম্ভব নয়। তবে ট্রাম্প এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “আমি শুল্ক আরোপের অধিকার রাখি, সব সময়ই রাখেছি।”

    আদালত বনাম হোয়াইট হাউস

    ট্রাম্প শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আদালতকে ‘কলঙ্ক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিচারপতিদের মধ্যে লিবারেলরা দেশের কল্যাণে না কাজ করে বিদেশি স্বার্থে প্রভাবিত হয়েছেন, আর যারা তাদের সাথে কনসার্ভেটিভরা মিলেছেন তারা “অরাষ্ট্রীয় ও সংবিধানের প্রতি অবিশ্বাসী”।

    তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ গ্লোবাল শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া অন্য দেশ থেকে অনিয় FAIR ট্রেড প্র্যাকটিসের তদন্ত করে শুল্ক আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখিয়েছেন।

    অর্থনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

    অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬–২০৩৫ সালের মধ্যে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্ক ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব বয়ে আনতে পারত। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কার্যকর শুল্কের হার ১২.৭ শতাংশ থেকে ৮.৩ শতাংশে নেমে গেছে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিকল্প আইনের মাধ্যমে শুল্ক আরোপ করা সহজ হবে না। র‌্যাচেল জিম্বা, সেন্টার ফর নিউ অ্যামেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো বলেছেন, “প্রশাসন বিকল্প আইনের মাধ্যমে শুল্কের আয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবে, তবে সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা আছে।”

    পিটারসন ইনস্টিটিউটের কিম্বারলি ক্লাউজিং জানিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে প্রেসিডেন্টের শুল্ক হাতিয়ার কিছুটা কমজোর হয়েছে। তবে ট্রাম্প যেভাবে বিকল্প আইনে শুল্ক আরোপ করবেন, তা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।”

    ট্রাম্পের শুল্ক নীতির লক্ষ্য

    গত এক বছরে ট্রাম্প শুল্ক ব্যবহার করেছেন কেবল রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক নীতি চাপানো ও বন্ধু-শত্রু দেশগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করার জন্যও। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন রাশিয়ার তেল ক্রয়ের কারণে।

    IEEPA আর হাতিয়ার হিসেবে নেই, তাই ট্রাম্প এখন অন্যান্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেমন স্যানকশন বা সামরিক চাপ প্রয়োগ করে তার নীতি বাস্তবায়ন করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, “এর প্রভাব বন্ধু ও শত্রু দেশ, উভয়েই অনুভব করবে। তবে এটি সময়ের সাথে আরও জটিলতা তৈরি করবে।”

    মার্কিন শুল্ক নীতির ভবিষ্যৎ এখন ট্রাম্পের বিকল্প আইনি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে, আর এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও থেকে যাচ্ছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন