ইরান ইস্যুতে মার্কিন অনুরোধে ‘না’ বলল যুক্তরাজ্য, বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার ক্ষেত্রে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে রয়েছে মার্কিন-যুক্তরাজ্য যৌথ সামরিক ঘাঁটি। তবে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে হলে ব্রিটিশ সরকারের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন—এবং সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
লন্ডনের আশঙ্কা, সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া এ ধরনের অভিযানে যুক্ত হলে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিয়েগো গার্সিয়া ও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর সঙ্গেও আলোচনা করেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরির সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের চুক্তি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ওই টেরিটরির আওতায় দিয়েগো গার্সিয়া ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান এবং যুক্তরাজ্যের আইনি সতর্কতা—এই দুইয়ের সমন্বয় না হওয়ায় দুই মিত্র দেশের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন কূটনৈতিক আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে।