মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি বাজার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। শুক্রবার বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা অব্যাহত থাকলে টানা তিন সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৯৯ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬২ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৭ দশমিক ৫ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে তারা অল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করেছিল বলে জানা গেছে।
তেলের দামে ঊর্ধ্বগতির আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রে মজুত হ্রাস। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে শোধনাগারের ব্যবহার ও রপ্তানি বেড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি করছে। উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর করতে পারে, যা জ্বালানির চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।