ইফতারের দোয়া: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

ইফতারসহ যে কোনো খাওয়া-দাওয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অথবা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ পড়া সুন্নত। তাই ইফতার শুরু করতে হবে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে।
খাওয়ার অন্যান্য সুন্নত ও আদব—যেমন খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া, বিনয়ী ভঙ্গিতে বসা, হেলান দিয়ে অহংকারীর মতো না বসা, ডান হাতে খাওয়া, ধীরে-সুস্থে খাওয়া, খাওয়া শেষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং কেউ খাওয়ালে তার জন্য দোয়া করা—ইফতারের সময়ও মনে রাখা উচিত।
এ ছাড়া ইফতারের সময় পড়ার জন্য কিছু বিশেষ দোয়া রয়েছে, যা নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবিরা আমল করতেন। নিচে এমন তিনটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—
১. ইফতারের দোয়া (হাদিসে বর্ণিত)
আরবি:
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ:
যাহাবায-যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ:
পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব নির্ধারিত হলো।
(সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)
২. ইফতারের দোয়া (হাদিসে বর্ণিত)
আরবি:
اَللّٰهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَىٰ رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়েই ইফতার করেছি।
(সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৮)
৩. ইফতারের দোয়া (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা.-এর আমল)
আরবি:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসি‘আত কুল্লা শাইইন আন তাগফিরা লি।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই রহমতের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যা সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে—আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।
(সুনানে ইবনে মাজা: ১৭৫৩)
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়
ইফতারের আগে ও ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—
১. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া
২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া
৩. মজলুম (অত্যাচারিত ব্যক্তির) দোয়া
মজলুমের দোয়া আল্লাহ তাআলা মেঘমালার ওপর উঠিয়ে নেন এবং তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমার ইজ্জতের কসম! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সাহায্য করব—যদিও কিছু সময় পরে।”
(সুনানে তিরমিজি: ৩৫৯৮)
ইফতারের সময় তাই শুধু পানাহার নয়, বরং দোয়া, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধিরও এক মূল্যবান মুহূর্ত। এই সময়টিকে আমলে পরিপূর্ণ করা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়।