সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Natun Kagoj

রোজার নিয়ত; বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিধান

রোজার নিয়ত; বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও বিধান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছার নাম। রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয় এবং আরবিতে বলা বাধ্যতামূলকও নয়। অন্তরে যদি কেউ দৃঢ়ভাবে ইচ্ছা করেন—‘আগামীকাল আমি রোজা রাখব’—তাহলেই নিয়ত আদায় হয়ে যায়। তবে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। বাংলাতেই রোজার নিয়ত করা যায়। অন্তরের ইচ্ছার সঙ্গে মুখে এভাবে বলতে পারেন—

আমি আগামীকাল রমজানের রোজা/অমুক রোজার কাজা/নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

এভাবে নিয়ত করলেই রোজা হয়ে যাবে। চাইলে আরবিতেও নিয়ত করা যায়।

রমজানের রোজার নিয়ত (বাংলা উচ্চারণ)

নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাযানাল মুবারাক ফারযাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

রমজানের রোজার নিয়ত (বাংলা অর্থ)

হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল বরকতময় রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি আপনার ফরজ বিধান হিসেবে। আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

রমজানের কাজা রোজার নিয়ত (বাংলা উচ্চারণ)

নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান সাওমা কাজাই ফারযি রমাযানা লিল্লাহি তাআলা।

রমজানের কাজা রোজার নিয়ত (বাংলা অর্থ)

আগামীকাল আল্লাহ তাআলার জন্য রমজানের রোজার কাজা আদায় করার নিয়ত করছি।

নফল রোজার নিয়ত (বাংলা উচ্চারণ)

নাওয়াইতু আন আসুমা গাদান লিল্লাহি তাআলা মিন নাফলি সাওমিন।

নফল রোজার নিয়ত (বাংলা অর্থ)

আগামীকাল আল্লাহ তাআলার জন্য নফল রোজা রাখার নিয়ত করছি।

রোজার নিয়ত কখন করবেন?

রমজানের ফরজ রোজা ও বছরের অন্যান্য সময়ের নফল রোজার নিয়ত রাতে করা উত্তম। উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন—
যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।
(সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৩৩)

যদি কেউ রাতে নিয়ত করতে না পারে, তাহলে দিনে সূর্য ঢলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো—সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়তের পূর্ব পর্যন্ত রোজার পরিপন্থী কোনো কাজ করা যাবে না। অর্থাৎ কিছু খাওয়া, পান করা বা রোজা ভেঙে যায়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। সুবহে সাদিকের পর এসবের কোনোটি করলে পরে আর রোজার নিয়ত করার সুযোগ থাকবে না।

সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) বলেন, (আশুরার রোজা যখন ফরজ ছিল তখন) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলাম গোত্রের একজন ব্যক্তিকে ঘোষণা করতে বললেন—
যে সকাল থেকে কিছু খায়নি, সে বাকি দিন রোজা রাখবে।
(সহিহ বুখারি: ২০০৭)

আবদুল করিম জাযারি (রহ.) বলেন, এক রমজানে কিছু লোক সকালে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিল। তখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বললেন—
“যে ব্যক্তি (ইতিমধ্যে কিছু) খেয়েছে, সে বাকি দিন খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আর যে খায়নি, সে বাকি দিন রোজা রাখবে।”
(বাদায়েউস সানায়ে: ২/২২৯)

নিয়তের সময়সীমা

রোজার নিয়তের সময় শুরু হয় আগের দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে। যেমন—মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকে করা যাবে। তবে সোমবার সূর্যাস্তের আগে মঙ্গলবারের রোজার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়।

কাজা, কাফফারা মানতের রোজার নিয়ত

কাজা ও কাফফারার রোজার নিয়ত অবশ্যই রাতে করতে হবে। সুবহে সাদিকের পর এসব রোজার নিয়ত করা বৈধ নয়।

কেউ যদি অনির্দিষ্টভাবে কোনো দিন রোজা রাখার মানত করে, তবে সেই মানতের রোজার নিয়তও আগের দিন সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত করতে হবে।

কারও যদি একাধিক রমজানের রোজা কাজা হয়ে যায়, তাহলে কাজা আদায়ের সময় নির্দিষ্ট করে নিয়ত করা জরুরি—কোন রমজানের রোজার কাজা আদায় করছেন তা উল্লেখ করতে হবে।

তবে কাজা রোজার সংখ্যা অনেক বেশি হলে এবং নির্দিষ্ট করা কঠিন হলে এভাবে নিয়ত করা যাবে—
আমার ওপর ফরজ কাজা রোজাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম কাজা হওয়া রোজাটি রাখলাম।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন