রমজানে সাহরির গুরুত্ব ও বরকতের ফজিলত

রমজান মাস কেবল রোজা রাখার জন্য নয়, এটি পুরো মাসজুড়ে ইবাদত ও নেক আমলের বিশেষ সুযোগ। এই সময়ে প্রতিটি ছোট আমলও আল্লাহর নিকট মহৎ মর্যাদা ও সওয়াব বয়ে আনে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো সাহরি খাওয়া। যদিও অনেকেই এটিকে শুধু রোজার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে থাকেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এতে বরকতের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
عن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً
আনাস ইবনু মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারি, হাদিস : ১৯২৩)
এই হাদিসে সাহরির গুরুত্ব অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সাহরির বরকত বহু দিক থেকে প্রকাশ পায়।
প্রথমত, এটি রোজাদারের জন্য শারীরিক শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা সারা দিন ইবাদত ও কর্মে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, সাহরি একটি সুন্নত আমল; তাই এটি পালন করলে ইবাদতের সওয়াব অর্জিত হয়। তৃতীয়ত, সাহরির সময়টি দোয়া, ইস্তিগফার ও তাহাজ্জুদের জন্য অত্যন্ত বরকতময়, কারণ এটি শেষ রাতের সময়, যখন আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত নাযিল হয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সাহরি মুসলিমদের রোজাকে আহলে কিতাবদের রোজা থেকে পৃথক করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরি বিলম্বে খেতে উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে এই সময়ের বরকত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে সর্বোচ্চ উপকার লাভ করা যায়।
সুতরাং সাহরি শুধু খাদ্য গ্রহণ নয়; এটি ইবাদত, সুন্নতের অনুসরণ এবং রহমত ও বরকত লাভের এক বিশেষ সুযোগ। যে ব্যক্তি এই আমলকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে, তার রোজা হয় আরও শক্তিশালী, অর্থবহ এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।