অপমানের নীরব ভাষা ‘লুমাযাহ’, কী বলছে হাদিস?

সমাজে অনেক সময় এমন কিছু আচরণ দেখা যায়, যেখানে মুখে সরাসরি কিছু না বলেও ইশারা-ইঙ্গিত, চোখ-ভ্রু বা মুখভঙ্গির মাধ্যমে কাউকে অপমান বা তুচ্ছ করা হয়। ইসলামী পরিভাষায় এই আচরণকে বলা হয় ‘লুমাযাহ’—যা কুরআনে কঠোরভাবে নিন্দিত হয়েছে।
আলেমদের মতে, লুমাযাহ হলো এমন এক নীরব অপমান, যা শব্দ ছাড়াই মানুষের সম্মানহানি ঘটায়। চোখ টিপে হাসা, ঠোঁট বাঁকানো, নাক-মুখ বিকৃত করা, কারো কথা বা চলাফেরা নকল করে ব্যঙ্গ করা—এসব আচরণই এর অন্তর্ভুক্ত।
কুরআনের সতর্কবার্তা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ”
অর্থ: “ধ্বংস তার জন্য, যে নিন্দাকারী ও উপহাসকারী।”
— সূরা আল-হুমাযাহ: ১
এখানে ‘হুমাযাহ’ বলতে মুখে নিন্দা করাকে এবং ‘লুমাযাহ’ বলতে ইশারায় অপমান করাকে বোঝানো হয়েছে। ইসলামী শিক্ষায় উভয় আচরণকেই গুরুতর গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“মু’মিন কখনো অপমানকারী, অভিশাপকারী বা অশ্লীলভাষী নয়।” — (তিরমিযী)
অন্য হাদিসে এসেছে,
“একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তাকে জুলুম বা অপমান করে না।” — (সহিহ মুসলিম)
বিদায় হজের ভাষণে মহানবী ﷺ আরও বলেন,
“তোমাদের জান, মাল ও ইজ্জত-সম্মান একে অপরের জন্য হারাম।” — (সহিহ বুখারি)
সমাজে লুমাযাহর বিস্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দৈনন্দিন জীবনে অনেকেই অজান্তেই এই গুনাহে জড়িয়ে পড়ছেন। কারো পোশাক, চেহারা বা আচরণ দেখে ব্যঙ্গ করা, পেছনে নাক-মুখ বাঁকানো, চোখের ইশারায় তাচ্ছিল্য প্রকাশ করা—এসব আচরণ সমাজে বিভেদ ও শত্রুতা সৃষ্টি করে।
লুমাযাহর ক্ষতি
- আল্লাহর অসন্তুষ্টি
- নেক আমল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
- হৃদয়ের কঠোরতা বৃদ্ধি
- পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি
- কিয়ামতের দিন কঠিন জবাবদিহিতা
করণীয় কী?
ধর্মীয় বক্তারা পরামর্শ দেন—
- অতীতের ভুলের জন্য আন্তরিক তাওবা করা
- প্রতিটি মানুষকে সম্মান করা
- মুখ, চোখ ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রাখা
- সন্তানদের ছোটবেলা থেকে কাউকে ইশারায় ঠাট্টা না করার শিক্ষা দেওয়া
তাদের মতে, লুমাযাহ একটি নীরব কিন্তু মারাত্মক গুনাহ, যা মানুষের অন্তরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, অন্যের সম্মান রক্ষা করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আল্লাহ সবাইকে এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
দৈএনকে/জে, আ