গাজায় পানি সংকট বেড়ে গেছে ভয়ঙ্কর মাত্রায়

গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে। ইসরায়েলি হামলায় সরবরাহ লাইন ও স্থানীয় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পৌর কর্মকর্তাদের মতে, উপত্যকার ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না। পানির ঘাটতির কারণে রোগ-বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গাজা সিটির অস্থায়ী তাঁবুগুলোতে সুপেয় পানি পেতে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে বাস্তুচ্যুতদের। কিন্তু তাতেও মিলছে না সমাধান। চাহিদার তুলনায় পানির ট্রাকের সংখ্যা অতি নগন্য। ফলে প্রতিদিনই পানি পেতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় ফিলিস্তিনিদের। অনেককেই বাড়ি ফিরতে হয় খালি হাতে।
গাজার পৌর কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েলি হামলায় সরবরাহ লাইন এবং স্থানীয় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গাজায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গাজা পৌরসভার মুখপাত্র হুসনি মাহনা বলেন, 'বেশিরভাগ এলাকায় পানির ঘাটতি রয়েছে। এতে বাস্তুচ্যুতদের অবস্থা আরও করুণ হয়ে উঠেছে। কারণ গাজা সিটিতে তাদের সংখ্যা এখন ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। শহরের ৮৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিয়মিত পানি পাচ্ছে না, যা অত্যন্ত ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।'
এদিকে, পানির ক্রমাগত ঘাটতিতে রোগ-বালাই বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস জানান, 'বাসিন্দাদের বাড়িতে সরাসরি পানির প্রবেশাধিকারের প্রয়োজন। এই কারণেই আমরা আরও মানবিক সহায়তার আবেদন করছি। এখানকার ক্ষতিগ্রস্ত পানির ব্যবস্থা মেরামতে অনেক পাইপের প্রয়োজন। এগুলো গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হোক। দিনের শেষে, গাজার দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের ওপর এই প্রবেশাধিকার সহজ করার দায়িত্ব বর্তায়।'
উল্লেখ্য, দুই বছরের ইসরায়েলি তাণ্ডবে গাজার প্রায় সব খাতই ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতির পরও, এগুলো মেরামতে ইসরায়েলি বাধার সম্মুখীন হচ্ছে গাজার বাসিন্দারা।
দৈএনকে/জে, আ