অবিশ্বাস পেরিয়ে কি নতুন অধ্যায় শুরু হবে?

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—এ প্রশ্ন এখন আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানালেও তা ছিল সতর্ক ও পরিমিত ভাষায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের শেষদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরবর্তীতে তার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা পারস্পরিক আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থবিরতা—এসব বিষয় সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।
ভারতের কাছে বিএনপি অপরিচিত রাজনৈতিক শক্তি নয়। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুরুতে কূটনৈতিক সৌজন্যতা দেখা গেলেও পরে আস্থার সংকট তৈরি হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। ২০১৪ সালে ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের ঘটনাও সম্পর্কে শীতলতা আনে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে ভারত নিরাপত্তা ও সংযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পেয়েছিল। তবে সেই ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের ভেতরে ভারতবিরোধী মনোভাবও উসকে দেয় বলে বিশ্লেষকদের মত।
শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়। এতে আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নয়াদিল্লিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক বিষয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো—বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠন, সীমান্ত ও পানি ইস্যুতে অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক সংযম, উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহার এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্ভব। তবে তা নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনার ওপর।
সূত্র: বিবিসি