তারেক রহমানের শপথে নাও আসতে পারেন নরেন্দ্র মোদি, কূটনৈতিক বার্তা কী?

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে।
সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দৃষ্টি থাকবে নতুন সরকারের নীতি, অগ্রাধিকার ও সংস্কার কার্যক্রমের দিকে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভারতের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তারেক রহমানের দল বিএনপির নেতারা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন ও পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তবে, এরই মধ্যে এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কিন্তু, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি থাকায় নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারতে সফরে আসছেন ম্যাক্রোঁ এবং তার সফর শুরু হবে মুম্বাই থেকেই।
অবশ্য, মোদি না এলেও তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। খুব সম্ভবত উপ-রাষ্ট্রপতি বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় যেতে পারেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে চায় না, যদিও সম্পর্ক তলানিতে নেমে যাওয়ায় তা পুনরায় পুনর্গঠন করা এখনও দিল্লির কাছে অগ্রাধিকার।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এর আগে, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই ফোনালাপে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।