বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরপুরে সংঘর্ষ-গাড়িতে আগুন, চার মামলায় আসামি প্রায় ১ হাজার ত্রুটি মেরামতের পর রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ভাল্বের পরীক্ষা সফল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পদত্যাগ করছেন বিএনপির এমপি মিষ্টি যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুমকি-ধমকিতে বিএনপি ভীত নয়: মীর শাহে আলম সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে ওটিপি বাধ্যতামূলক ‘সময় এসে গেছে’, ইরান ইস্যুতে কঠোর বার্তা ট্রাম্পের পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনাল হাতছাড়া বাংলাদেশের ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রবীণদের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন: রাষ্ট্রপতি
  • বাংলাদেশে নির্বাচনী ভূমিকায় পরিবর্তন

    বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ সদস্যের সংসদে ২১২  আসন অর্জন করে দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এই বিজয় কেবল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিকেও বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে।

    প্রার্থী ও দলের সমর্থকরা দীর্ঘ দুই দশকের মধ্যে এটি বাংলাদেশের প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামি-নেতৃত্বাধীন জোট ৭৪ আসন অর্জন করেছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীই তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার X (টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “বাংলাদেশের জনগণের আস্থা আপনার নেতৃত্বে।” এছাড়া মোদি সরাসরি ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃনির্ধারণ, সীমান্ত, পানি বণ্টন ও বাণিজ্য ইস্যুতে সতর্ক সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

    পাকিস্তানের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, নব নির্বাচিত সরকার দেশটির সঙ্গে আরও সুসংহত কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ার সুযোগ পাচ্ছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে জে-এফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    Indian External Affairs Minister S Jaishankar met BNP chief Tarique Rahman on December 31 last year to condole on the passing of his mother, former Bangladesh prime minister Khaleda Zia. [Handout/Indian External Affairs Ministry]

    চীনের সঙ্গে সম্পর্ক

    চীনও নবগঠিত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হাইলেভেল বিনিয়োগ, বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতা চীনের মূল অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং অঞ্চলে চীনের ভূমিকা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

    দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতি অনুসরণ করবে। এর অর্থ হলো জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় বজায় রাখবে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করবে।

    ড. শাহাব এনাম খান মন্তব্য করেছেন, “নতুন সরকার কূটনীতি বাস্তবসম্মত ভিত্তিতে পরিচালনা করবে। রূঢ় কূটনীতি নয়, কার্যকর ও স্বার্থনির্ভর সম্পর্ক স্থাপন হবে।”

    বিএনপির বিজয় শুধুমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপট নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও নতুন দিকনির্দেশনা নির্দেশ করছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃনির্ধারণ, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল যোগাযোগ—এসবই আগামী কূটনৈতিক কৌশলের মূল অঙ্গ।

    বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত খেলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন