তুরস্কে মূল্যস্ফীতি কমলেও ঝুঁকি বহাল: আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, তুরস্কের সঙ্গে ২০২৫ সালের আর্টিকেল IV পরামর্শ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ড বলেছে, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতি কমানোর কর্মসূচি ইতিবাচক ফল দিচ্ছে, তবে অর্থনীতি এখনো নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্কে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪৯.৪ শতাংশ (বছরওয়ারি)। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০.৯ শতাংশে। শক্তিশালী রাজস্ব সংহতি, নিয়ন্ত্রিত আয়নীতি এবং কড়াকড়ি মুদ্রানীতির ফলে এই অগ্রগতি এসেছে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.১ শতাংশে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। লিরার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি পর্যাপ্তভাবে অর্থায়িত হচ্ছে।
সংস্থাটি বলেছে, বর্তমান নীতির মিশ্রণ মূল্যস্ফীতি কমানো ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ২০২৬ সালের শেষে মূল্যস্ফীতি ২৩ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ৪.২ শতাংশ হতে পারে। স্বর্ণের উচ্চমূল্য ও আমানতকারীদের আস্থা বজায় থাকলে বৈদেশিক রিজার্ভ আইএমএফের নির্ধারিত পর্যাপ্ততার সূচকের প্রায় ৮০ শতাংশে স্থিতিশীল থাকবে।
তবে আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বহিরাগত ঝুঁকি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ধাক্কা মূল্যস্ফীতি কমার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। ধীরগতির মূল্যস্ফীতি হ্রাস আর্থিক খাতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিও মন্থর হয়েছে।
নির্বাহী পরিচালকরা তুরস্ক সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে তারা আরও কড়াকড়ি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির ওপর জোর দিয়েছেন। বাজেট ঘাটতি সাময়িকভাবে ৩ শতাংশের মধ্যমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার নিচে নামিয়ে আনা, করের আওতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ভর্তুকি ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমাতে তথ্যনির্ভর সুদহার সমন্বয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা জোরদার এবং বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে বৈদেশিক মুদ্রা তারল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতা অবলম্বন এবং ক্রিপ্টো সম্পদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
আইএমএফের মতে, তুরস্ক মূল্যস্ফীতি কমাতে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার ও কঠোর নীতির ধারাবাহিক বাস্তবায়ন জরুরি।