শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৫ ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস
  • মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ চলবে, যতক্ষণ না অভিবাসন কর্মকর্তারা চলে যান

    মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ চলবে, যতক্ষণ না অভিবাসন কর্মকর্তারা চলে যান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে এক মার্কিন নাগরিককে গুলিতে হত্যার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে শহরের মানুষ বিক্ষোভ করছে। রাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে আহবান জানিয়েছেন, এজেন্টদের শহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য। তিনি আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এটি একটি সন্ধিক্ষণ’। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিস ত্যাগ না করলে তারা বিক্ষোভ স্থগিত করবেন না।

    এদিকে নিজের সামাজিক মাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রের উচিত ‘রাজ্যের কারাগারে থাকা সব বন্দিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া।

    অপরদিকে শনিবার অ্যালেক্স প্রেট্টির হত্যাকাণ্ডের পর এই ঘটনার আগ মুহূর্তে যা ঘটেছে তা নিয়ে রাজ্য ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। গত শনিবার ফেডারেল এজেন্টরা তাকে মাটিতে ফেলে গুলি করে হত্যা করেন।

    গুলির যেসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সেসব বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো বলেছেন, সত্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত হওয়া দরকার।

    প্রেট্টি ছিলেন পেশায় নার্স এবং আমেরিকার নাগরিক। তাকে একজন ‘ভালো মনের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার বাবা মা।

    অপরদিকে মিনেসোটা ইউনিভার্সিটি এক বিবৃতিতে প্রেট্টির মৃত্যুকে ‘কমিউনিটির জন্য খুবই কষ্টের সময়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গ্রাজুয়েশন করেছিলেন তিনি।

    বিবৃতিতে পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়, তিনি এমন একটি পেশায় কাজ করতেন, যার মূল ভিত্তিই ছিল যত্ন, সহমর্মিতা আর সেবা।

    ফেডারেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ
    অ্যালেক্স প্রেট্টির গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো ও অন্যান্য ফেডারেল কর্মকর্তাদের করা কিছু মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস (ডিওসি)।

    বভিনো বলেছেন, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা অভিযানের সময় হোসে হুয়র্তা চুমাকে খুঁজছিল, যার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। তিনি চুমার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, ইচ্ছাকৃত শারীরিক আঘাত এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।

    এক বিবৃতিতে ডিওসি বলেছেন ফেডারেল কর্মকর্তারা বারবার রাজ্যের কাস্টডি ও অপরাধ রেকর্ড বিষয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তারা বলছেন, চুমার সাথে রাজ্যের কাস্টডির কোনো সম্পর্ক ছিলো না।

    তারা বলছেন, ফেডারেল কর্মকর্তারা যাকে চিহ্নিত করেছে তিনি কখনোই রাজ্যের কাস্টডি বা হেফাজতে ছিলেন না। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড নির্দেশনারও রেকর্ড নেই। এছাড়া ওই ব্যক্তি এখন ডিওসির নজরদারিতেও নেই।

    এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার পেট্রল কমান্ডার বভিনো বলেছেন, শনিবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব এজেন্ট এখনো কাজ করছেন যদিও তাদের মিনিয়াপোলিস থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এটি তাদের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এক সাংবাদিক বভিনোকে প্রশ্ন করেন যে, চলতি মাসেই মিনিয়াপোলিসে দুটি মৃত্যুর দায় তিনি নিচ্ছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের সময় যারা বাধা তৈরি করেছে তাদের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।

    আইসিএ এজেন্ট নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য
    ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনিয়াপোলিস থেকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা সময় মতো ছেড়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার প্রচার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এক পর্যায়ে আমরা সরে আসবো। তারা চমৎকার কাজ করেছে। তবে কখন তারা সরে যাবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।

    ট্রাম্প আরও বলেন, মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসন ‘সবকিছু পর্যালোচনা করছে’। এদিকে বিবিসির এক সংবাদদাতা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের দলের মধ্যেই বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

    কিছু রিপাবলিকান ফেডারেল এজেন্টদের এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, এটি একটি উদাহরণ যেখানে রাষ্ট্র একজন মার্কিন নাগরিকের অস্ত্র রাখার অধিকার লঙ্ঘন করছে।

    বিক্ষোভকারীরা বলছেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিস না ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিবাদ বন্ধ করবেন না। স্থানীয় সিটি সেন্টারের সামনে ফেডারেল এজেন্ট বিরোধী বিক্ষোভে বহু মানুষ অংশ নিয়েছে। তারা আইসিই বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই এলাকার সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভের প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন