সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট সংবিধানবিরোধী: হাইকোর্ট মেধা দিয়ে দেশ গড়তে হবে, বিদেশে গেলেও দেশের কথা ভাবতে হবে: ফরিদা খানম কারিগরি ত্রুটিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১,৫৬১ ‘আমাকে শুধু টাকা আয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখেছে’, পরিবার নিয়ে পপির ক্ষোভ এআই মডেলের উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রোপিক সিইওর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ দুই মাসে বেনাপোলে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন
  • আসল আপনি কোথায় হারিয়ে গেলেন?

    আসল আপনি কোথায় হারিয়ে গেলেন?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সারাদিন কর্মস্থল ও সামাজিক পরিসরে হাসিখুশি ও সক্রিয় থাকার পর অনেকেই দিন শেষে এক ধরনের মানসিক শূন্যতায় ভোগেন। বাইরে থেকে স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তৈরি হয় ক্লান্তি, অবসাদ এবং নিজের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতি। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘মাস্কিং’ (Masking)।

    মাস্কিং হলো সমাজে গ্রহণযোগ্য থাকার জন্য নিজের প্রকৃত অনুভূতি, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব আড়াল করে রাখা। অনেক মানুষ আশঙ্কা করেন, নিজের আসল রূপ প্রকাশ করলে তারা হয়তো গ্রহণযোগ্য হবেন না বা সমালোচনার মুখে পড়বেন। ফলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে এক ধরনের মানসিক অভিনয়ের ভেতর দিয়ে চলেন।

    কেন মাস্কিং ক্ষতিকর

    মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্কিং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বাড়ায়। যেমন— মোবাইল ফোনে ভারী অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চললে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তেমনি অনুভূতি চেপে রেখে ভিন্ন রূপে থাকার চেষ্টাও মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে দিন শেষে অকারণে ক্লান্তি, শূন্যতা ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়।

    এ অবস্থায় একজন মানুষ ধীরে ধীরে নিজের চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-অপছন্দ এবং পরিচয় নিয়েই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। চারপাশে মানুষ থাকলেও ভেতরের শূন্যতা কাটে না, কারণ মানুষ তার বাইরের মুখোশটাকেই চেনে, আসল সত্তাটিকে নয়।

    কেন মানুষ মাস্কিংয়ের পথে হাঁটে

    প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়, সবার কাছে ‘পারফেক্ট’ হওয়ার চাপ এবং অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা এড়ানোর প্রবণতা মানুষকে মাস্কিংয়ের দিকে ঠেলে দেয়। ধীরে ধীরে এসব ভয় মানুষকে নিজের থেকেই দূরে সরিয়ে নেয়।

    বেরিয়ে আসার উপায়

    মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—

    • এমন এক বা দুইজন প্রিয় মানুষ খুঁজে নেওয়া জরুরি, যাদের সামনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
    • সব পরিস্থিতিতে ‘হ্যাঁ’ বলার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘না’ বলতে শেখা দরকার।
    • নিজের মানসিক শান্তি ও স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

    সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার চেয়ে নিজের কাছে সৎ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় ঠিক থাকার অভিনয় না করে কখনো চুপ থাকা, নিজের মতো থাকা কিংবা ‘ভালো নেই’ বলতে পারাই মানসিক সুস্থতার প্রথম ধাপ।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ