শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে: বাণিজ্যমন্ত্রী মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাট, গ্রেপ্তার ৪ খুলনায় একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৭৬ প্রাথমিকের নিয়োগপত্র নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৩২ বাংলাদেশে বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের ইয়েমেনে হুথিদের আরও দুই ঘাঁটি দখলের দাবি সেনাবাহিনীর কালকিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা; সভাপতি রকিবুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক কাইয়ুম আজমানে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় 'সাইনিং সুপারমার্কেট'র শুভ উদ্বোধন জাসদ কার্যালয় 'গোপন বৈঠক’ আ. লীগ সন্দেহে শতাধিক নেতাকর্মী আটক
  • পোল্ট্রি খাতের জন্য নতুন নীতি নিয়ে বিতর্ক

    পোল্ট্রি খাতের জন্য নতুন নীতি নিয়ে বিতর্ক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মুরগির প্যারেন্ট স্টক আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তে দেশের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি খাত সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতীয় পল্লী উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় এই ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। খামারি ও উদ্যোক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এই নীতি বাস্তবায়িত হলে ডিম ও মুরগির মাংসের সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, দেশে বাণিজ্যিক খামারের জন্য একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা আমদানির অনুমতি থাকবে না। পাশাপাশি, সংকট দেখা দিলে কেবল ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক আমদানির অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে আমদানি নির্ভরতা কমানোই এই নীতির প্রধান লক্ষ্য।

    তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পোল্ট্রি খাতজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খামারি ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত না করে আমদানি বন্ধ করা হলে বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে।

    বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদার বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে প্যারেন্ট স্টক থাকবে, তারা আগে নিজেদের চাহিদা মেটাবে। ফলে আলাদা করে প্যারেন্ট স্টক ফার্ম ও হ্যাচারি পরিচালনায় যে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে, তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। 

    তিনি বলেন, ‘সংকটের সময় ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্যারেন্ট স্টক আমদানি করা হয়। এই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো শিল্প ঝুঁকিতে পড়বে। প্যারেন্ট স্টকের ক্ষেত্রে আমদানি উন্মুক্ত রাখা জরুরি।’

    উদ্যোক্তারা জানান, প্যারেন্ট স্টক আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করা হলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক খামারিরা।

    প্রাণী উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি, যাতে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে না যায়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সিন্ডিকেট একটি বাস্তব সমস্যা। আমদানি বন্ধ বা চালু—দুই ক্ষেত্রেই যেন বাজার কোনো গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না চলে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

    খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গুটিকয়েক বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কারণ দেশের প্যারেন্ট স্টকের সিংহভাগ উৎপাদন করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তারা বলছেন, কোনোভাবেই প্রাণিসম্পদ খাতকে সাত-আটটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন