বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • হাম-ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩১৯২ পদত্যাগের পর শূন্য হলো মিষ্টির সংসদীয় আসন আইন সবার জন্য সমান নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুলের জামিন নামঞ্জুর আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে মারার সেই পুলিশ ভ্যান উদ্ধার, ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণের দাবি   পদত্যাগের প্রশ্নে মিষ্টি: ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে’ ৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মিরপুরকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে সংসদে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
  • দুইদিনের সংঘর্ষের পর চারদিনের যুদ্ধবিরতি

    দুইদিনের সংঘর্ষের পর চারদিনের যুদ্ধবিরতি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সিরিয়ায় মার্কিন সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)–এর সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকার। টানা দুই দিন ধরে চলা তীব্র সংঘর্ষ এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিরীয় বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পর এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।

    গত কয়েকদিনের লড়াইয়ে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সরকারপন্থি সেনারা আরও ভেতরে ঢুকে পড়ে বলে জানায় সিরীয় সামরিক সূত্র। এরপর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এসব অভিযানে আরও দ্রুত অগ্রগতি হয়। সিরীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে রাক্কা প্রদেশ।

    এসডিএফের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের পর আলেপ্পো ও এর আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই এসডিএফের সঙ্গে চারদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে সিরীয় সেনাবাহিনী। যা মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়। একই সঙ্গে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন সহকারী মন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।
     
    এরপর এসডিএফ নিশ্চিত করে যে, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিচ্ছে এবং সরকারি বাহিনী আক্রমণ না করা পর্যন্ত তারা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না বলেও জানায়। 
     
    চুক্তি বাস্তবায়ন ও আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে এসডিএফ। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা রাজনৈতিক পথ, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং সংলাপের জন্য উন্মুক্ত এবং আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুত।’

    তবে যুদ্ধবিরতির কার্যকর হওয়ার পরপরই সরকারপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে এসডিএফ। ‘ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে’ হাসাকাহ শহরের দক্ষিণে আবিয়াদ রাস্তার পাশে তাল বারুদ গ্রামে ও জারকান ও রাক্কার কাছে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান এসডিএফ মুখপাত্র ফারহাদ শামি।
     
    অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও কুর্দিদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থেই লড়াই করছে। তাদের সুরক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। 
     
    এর আগে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফ-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণ চুক্তির ঘোষণা দেন। এসডিএফও তাতে সম্মতি জানায়। তবে যুদ্ধবিরতির একদিন পরই সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আবারও সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।

    সংঘর্ষের মধ্যে  হাসাকাহ প্রদেশের শাদ্দাদি কারাগার থেকে প্রায় ২০০ আইএস বন্দি পালিয়ে যায়। সরকার এ ঘটনার জন্য এসডিএফকে দায়ী করে এটাকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, এসডিএফ ইচ্ছাকৃতভাবে আইএস বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে পরিস্থিতি নিয়ে ভ্রান্ত বিবৃতি দিয়েছে।
     
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তি সত্ত্বেও এসডিএফ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কারাগারগুলো হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে এসডিএফ দাবি করেছে যে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত উপজাতীয় যোদ্ধাদের হামলার পর কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সেনাবাহিনী, যার ফলে বন্দিরা পালিয়ে যায়।
     
    এর মধ্যেই বন্দিদের খোঁজে সাড়াশি অভিযান শুরু করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। ২০০ জনের মধ্যে ১২৩ বন্দিকে আটক করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায় সরকার।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন