জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের উদ্বেগ: যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক আইনের তোয়াক্কা করছে না

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করার অভিযোগে দায়ী করেছেন। তার মতে, ওয়াশিংটন মনে করছে তাদের ক্ষমতা ও প্রভাব আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং কখনো কখনো তারা এই ক্ষমতা প্রয়োগে আইনের মানদণ্ড উপেক্ষা করছে।
বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহুপক্ষীয় সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, বরং দেশটির স্বার্থে ক্ষমতার প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনা—ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্টের উপর হামলা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি—বিশ্বের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী।
গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিগুলো আজ হুমকির মুখে, বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমতার নীতি। তিনি স্বীকার করেন যে, বড় শক্তিগুলো যখন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় প্রভাব প্রয়োগ করছে, তখন সংস্থার চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা সীমিত।
গুতেরেস প্রশ্ন তুলেছেন, এই ক্ষমতা কি সত্যিই টেকসই সমাধান আনতে ব্যবহার হচ্ছে, নাকি কেবল তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, সংস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন, যাতে ১৯৩টি সদস্য দেশের সামনে থাকা গুরুতর সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদ আজ বিশ্বকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। স্থায়ী পাঁচ সদস্য—ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এর যেকোনো এক সদস্য প্রস্তাব ভেটো দিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগ ব্যাহত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে।
গুতেরেসের অভিযোগ, ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে সদস্য রাষ্ট্রদের নিজস্ব স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, সাধারণ পরিষদের বার্ষিক ভাষণে বর্তমান বিশ্বকে “দায়মুক্তি, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তায় ভরা” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিশ্বে চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজা এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যেখানে যুদ্ধকালীন মানবিক সহায়তা বিতরণে জাতিসংঘ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
গুতেরেস মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৪৫ সালের প্রতিষ্ঠাকালীন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জগুলো—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব পরিবর্তন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ—একটির পর একটি আসছে।
তবে গুতেরেস আশাবাদী থাকছেন। তিনি বলেন, “শক্তিশালীদের মুখোমুখি না হলে ভালো বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”