ওমরাহ করতে চাইলে এখনই সিদ্ধান্ত নিন: ট্রাভেল এজেন্সি

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করা বিদেশি মুসল্লিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন ভ্রমণসেবা খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, রমজানের আগে ওমরাহর বুকিং দ্রুত নিশ্চিত না করলে প্যাকেজের খরচ দ্বিগুণ এমনকি তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিভিন্ন ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় মুসল্লিদের ব্যাপক সমাগম হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ এই সময়ে ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে যান। ফলে হোটেল ভাড়া, পরিবহন খরচ এবং অন্যান্য সেবার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
ভ্রমণ সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজানের শুরু ও শেষ দশকে ওমরাহ পালনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় সীমিত আবাসন ও ফ্লাইটের কারণে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে ওঠে। যারা আগে থেকেই বুকিং নিশ্চিত করেন, তারা তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত সেবা পেতে পারেন।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ট্রাভেল এজেন্সি ইতোমধ্যে রমজান কেন্দ্রিক ওমরাহ প্যাকেজের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। তাই আগ্রহীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।
ওমরাহ অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ প্রায় এক হাজার ২০০ দিরহাম হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই ব্যয় দুই হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় বুকিং পিছিয়ে দেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় উল্টো বেশি দাম গুনতে হয়।
আকাশপথে ওমরাহর ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম থেকে। তবে রমজান শুরু হলে এই প্যাকেজের দাম ৫ হাজার ২০০ দিরহাম ছাড়িয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হোটেল ভাড়াই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। হারামের হাঁটা দূরত্বে থাকা হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এ ছাড়া হজের প্রস্তুতির কারণে ওমরাহ ভিসার সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ মার্চের পর ওমরাহ ভিসা আবেদন বন্ধ হবে এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তাই খরচ ও সময়-দুটো বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগে পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।