পরমাণু কর্মসূচি নয়, শান্তি ও উন্নয়ন চাই: পাহলভির ঘোষণা

ক্ষমতায় গেলে ইরানের সামরিক খাতে পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সাবেক রাজা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির জ্যেষ্ঠ সন্তান ও নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটানো এবং ইরানকে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিকভাবে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রেজা পাহলভি বলেন, “বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনে বিশ্বের অনেকের কাছেই ইরান মানেই সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা আর দারিদ্র্য। কিন্তু এই চিত্র ইরানের প্রকৃত পরিচয় নয়। সত্যিকারের ইরান ছিল এবং হবে একটি শান্তিপ্রিয়, সুন্দর ও উন্নত রাষ্ট্র।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে জেগে উঠবে প্রকৃত ইরান। সেই নতুন ইরানে সামরিক পরমাণু প্রকল্প বন্ধ থাকবে, সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতি সব ধরনের সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করা হবে।”
রেজা পাহলভির ভাষায়, ভবিষ্যতের ইরান মধ্যপ্রাচ্যে পরিচিত হবে একটি স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা হবে এবং ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ইরান আব্রাহাম চুক্তি ও সাইরাস চুক্তির পরিসর বাড়ানোর পক্ষে থাকবে, যাতে ইরান, ইসরায়েল ও আরব বিশ্ব শান্তি ও সহযোগিতার পথে এগোতে পারে। “একটি মুক্ত ইরান হবে শান্তি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের প্রতীক,”—বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ইরানের শেষ রাজা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে দেশত্যাগে বাধ্য হন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামপন্থি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৮০ সালে কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।
রেজা পাহলভি ১৯৭৮ সালে সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং বিপ্লবের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। শাহের মৃত্যুর পর রাজতন্ত্রপন্থিরা তাকেই ইরানের ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ঘোষণা করে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। এই প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভি আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। একাধিক ভিডিও বার্তায় তিনি আন্দোলনরত জনগণকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।