শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৫ ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উল্লাস
  • ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে সেনা অবস্থান শক্তিশালী করছে

    ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে সেনা অবস্থান শক্তিশালী করছে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডেনমার্ক সরকার। এরই মধ্যে ডেনিশ সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের একাধিক ইউনিট গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

    ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ডিআর জানায়, এসব ইউনিটের মূল দায়িত্ব হবে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও অবকাঠামো প্রস্তুত করা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ডেনমার্কের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি।

    দলটির এক মুখপাত্র ডিআর-কে বলেন, “আমরা আগেই সরকারকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে—এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। যদি কোনো বৈশ্বিক শক্তি গ্রিনল্যান্ডে হামলার চিন্তা করে, তাহলে এই সামরিক প্রস্তুতি তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।”

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড আয়তনে প্রায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার হলেও এখানকার জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৫৬ হাজারের মতো। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। উত্তর আমেরিকার ভৌগোলিক পরিসরে অবস্থান করলেও গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ এবং এখানকার বাসিন্দারা ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত।

    আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই দ্বীপ বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতাত্ত্বিকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে, যা এটিকে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের মানুষ কী ভাবছে, তা বিবেচ্য নয়। আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে চাই। কারণ আমরা না নিলে চীন কিংবা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করবে—আর আমরা তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।”

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী সেখানে আমাদের সামরিক ঘাঁটি থাকলেও শুধু চুক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হয়। আমরা যদি তা না করি, তাহলে অন্য শক্তি তা করবে।”

    এই বক্তব্যের পরই গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন