শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • গাজার ভয়াবহ সংকটে সৌদি আরবের মানবিক ত্রাণ অভিযান

    গাজার ভয়াবহ সংকটে সৌদি আরবের মানবিক ত্রাণ অভিযান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট ও সেখানে বসবাসকারী মানুষের দুর্দশা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে গাজাবাসীর জন্য সহায়তা আরও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।

    এই নির্দেশনার আওতায় সৌদি আরবের জাতীয় ত্রাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আকাশপথ, সমুদ্রপথ ও স্থলপথ—তিন মাধ্যমেই গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে।

    রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ)-এর সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের মানবিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, ফিলিস্তিন ইস্যু সবসময়ই সৌদি নেতৃত্বের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

    কেএসরিলিফের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে আকাশ ও সমুদ্রপথে বড় পরিসরে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৭টি বিমান ও ৮টি জাহাজের মাধ্যমে ৭ হাজার ৬৯৯ টনেরও বেশি খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসা উপকরণ এবং আশ্রয় সহায়তা গাজায় পৌঁছেছে।

    স্থলপথেও সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ৯১২টি সৌদি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হয়েছে, যা জরুরি চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্তগত জটিলতা মোকাবিলায় জর্ডানের সঙ্গে যৌথভাবে আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া গাজার ভেতরে বিভিন্ন মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে সৌদি আরব।

    বর্তমানে গাজায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে এবং ইসরায়েলি হামলায় প্রায় চার লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের এই বাড়তি সহায়তা গাজাবাসীর জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক—অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এখন চরম আশ্রয় সংকটে রয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে অথবা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে এমন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছেন। এই মানবেতর বাস্তবতায় সৌদি আরবের ধারাবাহিক ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা অসহায় মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠেছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন