যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: তিন দেশ নজরে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরোক্ষভাবে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। শনিবার (৪ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলা অভিযান নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তার কোকেন মিল আছে, কোকেন তৈরির কারখানা আছে এবং তাকে সাবধান থাকতে হবে।”
কিউবা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশটির বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিউবার জনগণকে সাহায্য করার এবং যারা দেশটি ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে তাদের সহায়তা প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে কিউবার পরিস্থিতি মিল রয়েছে, আমরা চাই উভয় দেশের জনগণকে সাহায্য করতে।”
মেক্সিকো প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, দেশটি কার্যত মাদক কার্টেলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম পার্দো এই সমস্যার মোকাবেলায় ভয় পাচ্ছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি বহুবার মেক্সিকোর সরকারকে কার্টেল দমন করতে মার্কিন সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তবে তা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “ওরা মেক্সিকো চালাচ্ছে। আমাদের কিছু করতে হবে।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। মেক্সিকো, কিউবা ও কলম্বিয়া—তিন দেশই এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
মেক্সিকো জানিয়েছে, এই হস্তক্ষেপ “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে” এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে শান্তির অঞ্চল হিসেবে বজায় রাখতে হবে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সামরিক অভিযানকে “কাপুরুষোচিত, অপরাধমূলক ও বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা আহ্বান জানান।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যেকোনো ধরনের “একতরফা সামরিক পদক্ষেপ” প্রত্যাখ্যানের পুনর্ব্যক্তি করেছেন।
এই ঘটনায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।