ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। রোববার (২৭ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ সমাপ্তি, সম্ভাব্য শান্তি কাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা—এই তিন ইস্যু ঘিরেই আবর্তিত হবে আলোচনা।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক শান্তি সমাধান চায় এবং এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক শান্তি কাঠামো চাই, যা শুধু যুদ্ধ থামাবে না, ভবিষ্যতের সংঘাতও প্রতিরোধ করবে।”
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য আলাদা প্রস্তাবগুলোও টেবিলে উঠবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনাকে নতুন মোড় দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেন কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা, রাশিয়ার কৌশল, এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো—সবকিছুই নির্ভর করছে এই আলোচনার ফলাফলের ওপর।
ফ্লোরিডা বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। বিশ্ব নেতারা মনে করছেন, এই আলোচনা সফল হলে তা শুধু ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধই নয়, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনের কূটনীতিতেও নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তা বলেছেন, এই পরিকল্পনা ‘রাশিয়া যে পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন’। ক্রেমলিন জেলেনস্কির প্রস্তাব নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, যেখানে তিনি বলেছেন রাশিয়া সেনা সরালে ইউক্রেনও পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
রাতারাতি রুশ বিমান হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে বলে সেখানকার মেয়র জানিয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলে আরও একজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালেও রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সতর্ক করেছে, পুরো দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালায়। বর্তমানে মস্কো দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অঞ্চলগুলো সম্মিলিতভাবে দনবাস নামে পরিচিত।
ইউক্রেন শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইছে এবং জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রাশিয়া যেসব এলাকা দখল করতে পারেনি, সেসব দনবাস অঞ্চলে একটি নিরস্ত্রীকৃত “মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল” গড়ে তোলা সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে।
শুক্রবার জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০ দফা পরিকল্পনার ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, ‘আমাদের কাজ হলো নিশ্চিত করা যে সবকিছু ১০০ শতাংশ প্রস্তুত’। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা একদিনও নষ্ট করছি না। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছি—শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে। নতুন বছরের আগে অনেক কিছুই সিদ্ধান্ত হতে পারে’।
তবে শুক্রবার প্রকাশিত পলিটিকোর এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের হাতে ‘কিছুই নেই যতক্ষণ না আমি অনুমোদন দিচ্ছি’। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় তার সঙ্গে ভালোই হবে। আমার মনে হয় (ভ্লাদিমির) পুতিনের সঙ্গেও ভালোই হবে’। তিনি আরও জানান, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার আশা করছেন। খবর-বিবিসি