জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি মেক্সিকোর, ভেনেজুয়েলায় সহিংসতা ঠেকাতে

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও তেল ট্যাংকারের অবরোধ ঘোষণার মধ্যে, মেক্সিকো জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম সম্ভাব্য সহিংসতা ও রক্তপাত ঠেকানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় যে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভেনেজুয়েলায় চাপ বাড়াচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাংকারের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে, তখন শেইনবাউম জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“জাতিসংঘের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো নয়। যেকোনও রক্তপাত ঠেকানো এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।”
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্ব নিয়ে যেভাবেই মতামত থাকুক না কেন, মেক্সিকোর অবস্থান পরিষ্কার—কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি যোগ করেন,
“আমরা সংলাপ ও শান্তির পক্ষে, হস্তক্ষেপের নয়। এটি আমাদের নীতিগত অবস্থান এবং সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বুধবার জানিয়েছে, ইকুয়েডরের মান্তা বন্দরে ইকুয়েডরীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে সাময়িক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী উপস্থিত। তবে কতজন সৈন্য বা কী ধরনের সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত সোমবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে তিনটি নৌযানে হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত, যেখানে অন্তত ২৬টি ছোট নৌযান ধ্বংস এবং কমপক্ষে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন।
মেক্সিকোর আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের মধ্যকার এই উত্তেজনা, ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতার জন্য বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।